মোস্তাফিজের ইনসুইংয়ে খুশি গিবসন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৫৫ এএম

দারুণ জয়ে সিরিজ শুরুর পর নির্ভার বাংলাদেশ। তাই দুই ওয়ানডের মাঝের দিনটিতে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন ছিল না। তবুও নিজেদের উন্নতির টানেই অনুশীলন করতে চলে এলেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমদের মতো অভিজ্ঞরা। নেটে ব্যাট হাতে বেশ সময় কাটিয়েছেন তামিম। সমালোচনার জবাব দেওয়ার উপায় জানা আছে বলেছিলেন বাংলাদেশ ওপেনার। কঠোর অনুশীলনে নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছেন নেতৃত্বের অভিষেকে ৪৪ রানে সামনে থেকে দলকে টেনে নেওয়া অধিনায়ক। সাকিবও ঘাম ঝরানো সময় কাটিয়েছেন নেটে। বল হাতে স্বরূপে ফিরলেও দ্রুত ব্যাট হাতেও নিজেকে আগের অবস্থানে নিতে চান সাকিব।

অনুশীলনে ছিলেন তাসকিন আহমেদও। এ সিরিজের প্রথম ম্যাচেই খেলতে পারতেন। কিন্তু হাতে ইনজুরি তাকে ছিটকে দিয়েছিল। ইনজুরি সেরে উঠছে বলে নিজেকে ভালোভাবে তৈরি করছেন তাসকিন। বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের তত্ত্বাবধানে টেস্টের আগে নিজের ধার বাড়িয়ে নিচ্ছেন। সেই ওটিস গিবসন দলের অপর ফ্রন্টলাইন পেসার মোস্তাফিজুরের উন্নতি নিয়ে দারুণ খুশি। উইন্ডিজ এ কোচের সবচেয়ে সফলতা মোস্তাফিজকে ইনসুইংয়ে অভ্যস্ত করা। প্রথম ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের প্রথম উইকেটই এসেছে ইনসুইং  ডেলিভারিতে। এখান থেকে ফিজকে অনেক সামনে যেতে দেখছেন গিবসন, ‘সে অনেক পরিশ্রম করেছে। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো ও আনন্দদায়ক। আমরা চেষ্টা করছি বল ভেতরে আনার, আমরা অনেক কিছু নিয়েই কাজ করেছি তার কবজির পজিশন নিয়েও। সে ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে, সে তার কবজির পজিশন ঠিক জায়গায় আনলে বল ভেতরের দিকে সুইং করাতে পারে। আশা করছি সে এখান থেকে আরও ভালো করবে এবং সামনের ম্যাচগুলোয় ফিজের কাছ থেকে আপনারা আরও বল ভেতরের দিকে সুইং করতে দেখবেন।’

প্রথম ম্যাচে অভিষেকে আলো ছড়ানো হাসান মাহমুদকে নিয়েও মুগ্ধতা সাবেক উইন্ডিজ পেসার গিবসনের। তবে এ ম্যাচে ভালো করেছেন বলে নয়, হাসানকে নিয়ে তার প্রত্যাশা ছিল আগে থেকেই, ‘না সে (হাসান) আমাকে একদমই অবাক করেনি, এ জন্যই তাকে একাদশে রাখা হয়েছিল। কারণ আমরা তার উন্নতি দেখেছি। সে প্রায় ১২ মাস ধরেই আমাদের সঙ্গে আছে। গত বছরের শুরুতে পাকিস্তানে ছিল। তার ভালোভাবেই উন্নতি হতে দেখেছি। সুতরাং তার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ ছিল এবং অভিষেকেই তিন উইকেট তার পরিশ্রমের ভালো পুরস্কার।’

বাংলাদেশ যখন ঐচ্ছিক অনুশীলনেও মনোযোগী উইন্ডিজ সেখানে গা এলিয়ে বিশ্রামে। বাংলাদেশে আসার পর থেকে নিজেদের মধ্যে অনুশীলনেই সীমাবদ্ধ ছিল দলটি। খেলেনি কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রথম ওয়ানডের আগের দিনও অনুশীলন করেনি, আবার দ্বিতীয় ওয়ানডের আগেও না। কিন্তু দলটির তরুণ পেসার আলজেরি জোসেফ এতে কোনো দুশ্চিন্তা দেখছেন না। জানালেন, ‘আমাদের অনুশীলন বেশ ভালো হয়েছে। আমরা ম্যাচ খেলেনি কিন্তু আসল ব্যাপার হলো মূল ম্যাচে পরিকল্পনার সফল প্রয়োগ। আমরা প্রথম ম্যাচে সেটা করতে পারিনি। এমনিতে আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানি। এটাও জানি যে, কাল (আজ) হারলেই সিরিজ শেষ। তাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে একদম প্রথম বল থেকে ৩০০তম বল পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দেওয়ার।’

দলীয় সংগ্রহ মাত্র ১২২। এমন কিছুর পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ভালো থাকার কথা নয়। তবে আলজেরি জানালেন টিম ম্যানেজমেন্ট এমন ম্যাচের পরও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, ‘প্রথম ম্যাচে হারের পর আমাদের যে টিম মিটিং হয়েছে তাকে ভালো বলা যাবে না। অবশ্যই আমরা হতাশ ছিলাম। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদের খুব আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। ইতিবাচক দিকগুলো যেমন আকিলের বোলিং, কাইলের (মায়ার্স) ব্যাটিংগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা যেভাবে বল করেছি তাতে কোনো অভিযোগ ছিল না। কারণ এই পিচে ২২০ হলেই ভালো স্কোর হতো। বা শুরুতে কয়েকটি উইকেট পেলে ম্যাচ বদলে যেত। সামনের ম্যাচে আমাদের সে রকম চেষ্টা থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত