দীর্ঘ বিরতি শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালোভাবে ফিরতে চেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। বিশেষত প্রথম ওয়ানডেতে আলাদা গুরুত্ব ছিল নতুন অধিনায়কের। তামিমের সেই আশা পরিপূর্ণ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজকে সহজেই হারানো গেছে।
করোনা বিরতির পর আন্তর্জাতিকে এতটা দাপুটে ফেরা হয়নি কোনো দলের। বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। এই ধারাবাহিকতা রেখে এবার সামনে নজর তামিমদের। আজই সিরিজ নিশ্চিত করা। উইন্ডিজের বিপক্ষে পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হাতছানি। সুযোগ থাকছে ওয়ানডে সুপার লিগে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার।
প্রথম ওয়ানডের কোনো কিছু নিয়ে যদি ভাবতে হয় তবে তা ব্যাটিং। ১২৩ রান করতে ৩৩.৫ ওভার লেগেছে বাংলাদেশের। ধীরে খেলা নিয়ে অভিযোগ নেই। কিন্তু বিনা উইকেটে ম্যাচ জিতলে ওয়ানডে সুপার লিগে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক শক্ত হতো। ঘুরে-ফিরে সেই তিন ও চার নম্বর পজিশনের কথাই আসছে। নাজমুল হোসেন শান্ত সম্প্রতি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ওপেন করেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে তিন নম্বরে নেমে হতাশ করলেন প্রথম ম্যাচে। এদিকে সাকিব নিজের নতুন পজিশনে সাবধানী খেলেও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। অবশ্য এক ম্যাচেই কাউকে পরখ করা যায় না। দারুণভাবে সিরিজ শুরুর পর ব্যাটসম্যানরা এখন নির্ভার। এই অবস্থায় নতুন পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগটা লুফে নিতে হবে দুই ব্যাটসম্যানকে। বিনা উইকেটে জিতলে তামিমদের রানরেট বেড়ে যেত অনেক। ১৬.১ ওভার হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয়েই সুপার লিগে সবচেয়ে ভালো রানরেট এখন বাংলাদেশের, ১.২৫। এই রেট আরও বাড়ানোর সুযোগও আজ থাকছে।
প্রথম ম্যাচ শেষে এই ম্যাচ নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না তামিমের। সে রকমই একটি দিন কাটিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে একদম শুরু থেকেই তাকে উইকেট এনে দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে মনের মতো পারফরম পেয়েছেন। অভিষিক্ত হাসান মাহমুদও তামিমকে নিরাশ করেননি। মূলত বোলারদের কাছ থেকে চাওয়ার চেয়েও বেশি পেয়েছেন নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক। আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের শুরুতে বোলারদের এই পারফরম্যান্স তামিমের কল্পনার বাইরেই ছিল হয়ত। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও বোলারদের কাছে এর ধারাবাহিকতা আশা করছেন তামিম।
এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ দিক উইকেট। প্রথম ম্যাচে মিরপুরের বোলিংবান্ধব উইকেটে বোলাররা দারুণ সুবিধা পেয়েছেন। সঙ্গে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া ব্যাটসম্যানদের কাজ আরও কঠিন করে দিয়েছে। সিরিজ নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় ম্যাচেও একই উইকেট হওয়ার সম্ভাবনা। এমন উইকেটে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের কথাই বলেছেন তামিম। এ জায়গায় অভিজ্ঞতার কারণেই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। আজও সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে।
অভিজ্ঞ বাংলাদেশের ব্যাটিংলাইনের জন্য চিন্তা হতে পারেন তরুণ উইন্ডিজ স্পিনার আকিল হোসেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও এই বাঁহাতি স্পটলাইটে থাকবেন। মাত্র ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে উইন্ডিজের হয়ে অভিষেক সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন আকিল। আজও তার কাছ থেকে একই পারফরম চাইবে সিরিজ হার ঠেকানোর লক্ষ্যে থাকা উইন্ডিজ।
দুই দলের একাদশে কোনো পরিবর্তন না থাকাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ জয়ী একাদশ রাখতে চাইবে। অবশ্য হালকা ইনজুরিতে ভোগা সাইফউদ্দিনের জন্য ম্যাচের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে বাংলাদেশ। এদিকে উইন্ডিজ দলেও কোনো বদল না আসার কারণ যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া। এক ম্যাচ দেখেই কাউকে সরিয়ে ফেলতে চাইবেন না কোচ ফিল সিমন্স।
