কারা অভ্যন্তরে নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলমার্ক জিএমের

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৫৪ এএম

গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবিধি লঙ্ঘন করে বন্দির সঙ্গে এক নারী সাক্ষাৎ করেছেন। কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও ডেপুটি জেলারের সহায়তায় বন্দি হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমদের সঙ্গে ওই নারীর সাক্ষাতের ঘটনা ধরা পড়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়ও। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে কারা কর্র্তৃপক্ষ ও গাজীপুর জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ৬ জানুয়ারি কারাপোশাক বদলে কালো রঙের জামা-কাপড় পরে কারাগারে প্রবেশের পথে কর্মকর্তাদের অফিস এলাকায় আসেন তুষার আহমেদ। তিনি আসার কিছু সময় পর সিনিয়র জেল সুপার রতœা রায় ও ডেপুটি জেলার সাকলাইনের উপস্থিতিতেই বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে প্রবেশ করেন। তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে।

তিনি জানান, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অপর দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারাগারের কর্মকর্তাদের কক্ষ এলাকায় প্রবেশ করেন। তাকে সেখানে রিসিভ করেন ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ওই নারী সেখানে প্রবেশ করার পর অফিস থেকে বেরিয়ে যান ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। আনুমানিক ১০ মিনিট পর কারাগারে বন্দি তুষার আহমদকে সেখানে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

এ ছাড়া ২১ জানুয়ারি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে উপ-সচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লাহ ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবিরকে সদস্য করে আরও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবুল কালাম বলেন, কারাগারের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজটি আমরা দেখেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ ব্যাপারে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর জেল সুপার রতœা রায়কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তিনজন প্রত্যাহার : তুষার আহমেদকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া তিনজনকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন।

প্রত্যাহারকৃতরা হলেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান।

কারা অধিদপ্তরের দেওয়া ১৮ জানুয়ারির এক আদেশনামায় দেখা গেছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমানকে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ থেকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মন্তব্যের জায়গায় লেখা রয়েছে প্রশাসনিক কারণে। আদেশটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করতেও বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত