কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে টিকা পাঠিয়েছে ভারত : রিজভী

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৫৫ এএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ য্গ্মু মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ওপর ট্রায়াল করে কার্যকারিতা ও পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নিশ্চিত হওয়ার জন্যই ভারত উপহার হিসেবে এ টিকা পাঠিয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

উপহার হিসেবে ভারতের পাঠানো ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘পৃথিবীর দেশে দেশে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা যেভাবে টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে মানুষকে আস্থা ও ভরসা দিচ্ছেন ও আশ্বস্ত করছেন, আপনারাও সেই পথ অনুসরণ করুন। আপনারা আগে টিকা নিলে জনগণ ভরসা পাবে এবং টিকা নিতে সাহস পাবে। টিকা নিয়ে তখন ভ্রান্ত ধারণাও কেটে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত তাদের দেশে কভিড-১৯ মোকাবিলায় দুই ধরনের টিকা অনুমোদন দিয়েছে। একটি হচ্ছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার মিলিত গবেষণায় তৈরি টিকা “কোভিশিল্ড”। অপরটি হচ্ছে ভারত-বায়াটেকের উদ্ভাবিত টিকা “কোভ্যাকসিন”। “কোভিশিল্ড” ও “কোভ্যাকসিন” এই দুটোই উৎপাদন করছে ভারতের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশে কোনটি পাঠিয়েছে? কোভিশিল্ড নাকি কোভ্যাকসিন? ভারতে টিকা গ্রহণের পর চার দিনে মারা গেছে তিনজন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬০০। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কোভ্যাকসিন টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকদের বড় অংশ। তারা বলেছেন, কোভ্যাকসিন নিয়ে আমরা সন্দিহান ও সংশয়ী। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হওয়ায় এ নিয়ে ঘোরতর রহস্য তৈরি হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারত নিজেরা এই টিকার পরীক্ষা শুরু করবে আগামী মার্চ থেকে। ওই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকারের ছাড়পত্র পাওয়ায় বহু বিশেষজ্ঞ বিস্মিত। সুতরাং আমরা কি বিপজ্জনক গিনিপিগে পরিণত হয়েছি ভারতের টিকা পরীক্ষার?’

রিজভী বলেন, ‘এই সরকার শুরু থেকেই কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলেছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আতঙ্ক ও ভীতির সুযোগে ত্রাণ বিতরণের নামে সারা দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট, ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সহযোগিতায় কভিড-টেস্টের ভুয়া সনদ কেলেঙ্কারি, করোনা চিকিৎসার নামে ভুয়া হাসপাতাল চালু, মাস্ক, পিপিই সরঞ্জাম, স্যানিটাইজার খরিদ-টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির মহোৎসব এত সব অপকর্ম করে জনগণের কাছে এই সরকারের কোনোই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারত করোনাভাইরাসের টিকা ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।’ অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ভারত যদি দেখে এটা নিরাপদ তখন তারা তাদের জনগণকে এই ভ্যাকসিন দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আব্দুস সালাম, ড. সুকোমল বড়ুয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত