ভারতের উপহার হিসেবে বাংলাদেশে আসা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ পাঁচ হাসপাতালে একসঙ্গে একইদিন করবে সরকার। আগের ঘোষণা অনুযায়ী চার হাসপাতালের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব হাসপাতালের একশ থেকে দেড়শজন স্বাস্থ্যকর্মীর তালিকা তৈরি রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি পরীক্ষামূলক করোনার টিকা কর্মসূচির উদ্বোধনের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় অনুযায়ী টিকা প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কবে এ পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে, সে তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী যেদিন তারিখ দেবেন, তার দুই-এক দিনের মধ্যেই পাইলটিং করে ফেলব। সেজন্য প্রস্তুত অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গতকাল শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তারিখ ঠিক হয়নি। আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল চারটি হাসপাতালে করা হবে। এখন নতুন সংযুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেও পাইলটিং করা হবে। একইদিন পাঁচ হাসপাতালে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভারতের উপহার হিসেবে দেওয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ করোনার টিকা ‘কভিশিল্ড’ বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। এ টিকার প্রয়োগ নিয়ে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে বলা হয়, টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। তারপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী, এক সপ্তাহ অপেক্ষা করা হবে। টিকা নেওয়ার পর তাদের মধ্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কি না তা দেখা হবে। সেখানে আরও বলা হয়, প্রথম দিন কুর্মিটোলা হাসপাতালে ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য সম্ভাব্য ২৭ অথবা ২৮ জানুয়ারির কথা বলা হয়। পরে গত তিন দিনে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত কর্মসূচি অনুযায়ী, এখন পাঁচ হাসপাতালে এক দিনে পাঁচশোর মতো স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে।
বিভ্রান্তি দূর করতে প্রচার শুরু : মানুষের মনে যাতে এ টিকার বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয় সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচার শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ (গতকাল শুক্রবার) থেকে প্রচার শুরু করেছি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছি। প্রতিদিনেই ধারাবাহিকভাবে সব পত্রিকায় যাবে। আরও কিছু করেছি। ধৈর্য সহকারে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে নানা বক্তব্য সংবলিত লিফলেট করেছি। সেগুলো বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনদের পাঠানো হচ্ছে। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ যেভাবে করা হয়েছিল, সেভাবে টিকার জন্যও প্রচার চালানো হচ্ছে। সিভিল সার্জনরা তাদের এলাকায় এগুলো প্রচার করবেন। টেলিভিশনের জন্য টিভিসি বানানো হয়েছে। সেটা টিভি স্ক্রলে যাবে। সেখানে মোটাদাগে আমরা বলেছি, সবাই তো আর একসঙ্গে টিকা নিতে পারবে না। ধাপে ধাপে হবে। আর টিকা নিলেই যে সব ভালো হয়ে যাবে, সবাই আগের মতো চলাফেরা করবে, এমন নয়। টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। আর ধাপে ধাপে সবাই টিকা পাবেন। তবে প্রথম দফায় নয়, ধাপে ধাপে এটাই মূল বার্তা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রচারণায় বলা হচ্ছে, কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন একটা নিরাপদ ভ্যাকসিন। তবে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কারো কারো ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ভ্যাকসিন প্রয়োগের জায়গায় ফুলে যাওয়া, সামান্য জ¦র হওয়া, বমি বমি ভাব, মাথা ও শরীরব্যথা। এ লক্ষণগুলো দুই-এক দিন থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর যেকোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র/স্বাস্থ্যকর্মী/চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ, টিকা নেওয়ার পর টিকাকেন্দ্রে ৩০ মিনিট অপেক্ষা ও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে বলা হচ্ছে।
দ্বিধার কিছু নেই : সম্প্রতি ভারতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে চারশো মানুষের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে টিকা আসার পর দেশের মানুষের মধ্যে নানা ধরনের কথাবার্তা শুরু হয়েছে। টিকা আগে নেবেন কি না এ নিয়ে নানাজনের মধ্যে নানা ধরনের দ্বিধা কাজ করছে।
এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে দুশ্চিন্তা বা ঘাবড়ানোর কিছু নেই। দেশে প্রচলিত টিকার মতো এ টিকাতেও কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে সেটি মারাত্মক কিছু নয়। এখন পর্যন্ত এ টিকার কোনো দেশেই বড় ধরনের কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
তবে বিশেষজ্ঞরা কাদের টিকা নেওয়া ঠিক হবে না এবং কারা টিকা নিতে পারবেন, সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি টিকা নেওয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে করোনা মোকাবিলায় গঠিত সরকারের জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের দেশের মানুষরা মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এসব খুব যে কার্যকর, সেটা জানে। জেনেও পালন করে না। এত বড় একটা কার্যকর জিনিস হাতের কাছে থাকতেও সেটা মানে না। আর টিকার ব্যাপারে আমরা এখনো সম্পূর্ণ জানি না। ফলে তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। এখন যখন দেখছে টিকা এসেছে, তখন মনে করছে টিকা ছাড়াই তো চলে, মাস্ক পরলেই তো হয়, এভাবেই তো করোনা কমে যাচ্ছে। টিকার নানা ধরনের কথাবার্তায় এখন মনে করছে মাস্ক পরাই তো ভালো এ ধরনের মনোবৃত্তি বেড়ে যাচ্ছে।
এখন মানুষের মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন দেখছে যে টিকা নিতে হবে, কোনো উপায় নেই, এখন মানুষ মাস্ক পরবে।
এ প্রবীণ ভাইরোলজিস্ট বলেন, টিকা নিতেই হবে। টিকা নিলে অসুবিধা নেই। আমাদের এখানে যে টিকা দেওয়া হয়, সেখানেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জ¦র এলো, গায়ে ব্যথা হলো, মাথাব্যথা এগুলো সাধারণ। অসুবিধা নেই। মারাত্মক কিছু হলে অসুবিধা। এখন পর্যন্ত অক্সফোর্ডের টিকায় মারাত্মক কিছু হয়নি।
টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে : টিকা নেওয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, টিকা নেওয়ার পর আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মানা ছেড়ে দিই, তাহলে অসুবিধা। কারণ এ টিকা যে সারা বছর আমাদের সুরক্ষা দেবে, সে অবস্থায় এ টিকা নেই। সাধারণত পাঁচ-ছয় মাসের বেশি এ টিকার কার্যকারিতা থাকছে না। তাই মাস্ক ব্যবহারের মধ্যেই থাকতে হবে। শুধু করোনা নয়, এ শহরে ধুলোবালি, ঠা-া, অনেক কিছুর জন্য মাস্ক পরার অভ্যাস রাখতে হবে। বরং মাস্ক পরাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। টিকা নেওয়ার পরও মাস্ক পরা অব্যাহত রাখতে হবে এবং এভাবেই এক দিন করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এখন দেশে করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। শনাক্ত কমছে।
মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মানুষকে বোঝাতে সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সেটা মানুষকে বোঝাতে হবে। গণমাধ্যমকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। এটা এখনো নিশ্চিত নয় যে কোন টিকায় কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। এটাতে ভয়ের কিছু নেই। তাই মানুষকে টিকা নিতে হবে। এসব প্রচার করা হচ্ছে। তবে লাইভ টিভিতে গিয়ে এ ধরনের প্রচার আমরা নিরুৎসাহিত করছি। প্রতিদিন আমরা করোনার যে প্রেস রিলিজ দিচ্ছি, সেখানেও প্রতিদিন টিকা নিয়ে একটা করে ডায়ালগ যাবে। টিকায় ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি : কোন প্রতিষ্ঠানের কোন চিকিৎসক ও নার্সসহ কোন স্বাস্থ্যকর্মীদের পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়া হবে সে তালিকা এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে পৌঁছেনি। নতুন সংযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ আজ শনিবার তালিকা ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুর পাইলটিং করার তথ্য জানানো হয়নি। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। এ ব্যাপারে আমাদের একটি কমিটি কাজ করছে। সেই কমিটি তালিকা করবে। সে ক্ষেত্রে কোনো স্বাস্থ্যকর্মীকে জোর করা হবে না। যারা স্বেচ্ছায় নিতে চায়, শুধু তাদেরই ট্রায়ালে টিকা দেওয়া হবে। আগামীকাল সকালে (আজ শনিবার) বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগকে ‘ট্রায়াল’ হিসেবে বলতে নারাজ। এটি পাইলটিং প্রকল্প। অর্থাৎ প্রথমে কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে টিকা প্রয়োগ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখার পাশাপাশি টিকা প্রয়োগের অভিজ্ঞতা অর্জন করা হবে। তারপর সেই পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। পাইলটিংয়ের জন্য তালিকা প্রতিষ্ঠান করবে। তারা তালিকা সরবরাহ করবে। আমরা তালিকা অনুযায়ী টিকা দেব। ১০০-১৫০ জনের তালিকা করতে বলেছি। সুন্দর করে একটি কেন্দ্র বানিয়ে সেখানে টিকা দেওয়া হবে। এক দিনে পাঁচটি হাসপাতালেই করব। এর মধ্যে যদি কেউ বাদ পড়ে, তার জন্য প্রয়োজনবোধে পরের দিন বা সুবিধাজনক দিনে দেওয়া হবে।
কারা টিকা নিতে পারবেন : সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যাকে টিকা দেওয়া হচ্ছে, এমন ১৮ বছর থেকে ৮০ ঊর্ধ্ব বয়স পর্যন্ত যে কারো যদি কোনো ফুড ও ড্রাগ অ্যালার্জি থাকে, তাদের টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীসহ যারা এই মুহূর্তে হাসপাতালে আছেন, কেমোথেরাপি বা ওষুধ নিচ্ছেন, তাদের টিকা দেওয়া হবে না। কিন্তু যারা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের টিকা নিতে কোনো অসুবিধা নেই। যারা এই মুহূর্তে অসুস্থ আছেন, তারা কভিড বা নন-কভিড হোন, তাদের টিকা দেওয়া হবে না। কারণ এখনো জানা যায়নি, তাদের টিকা নিলে ক্ষতি হবে কি না।
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, টিকা দেওয়ার সময় সাধারণ উপদেশ, যাদের কভিড হয়েছে এবং এদের মধ্যে যারা সুস্থ আছেন, অন্তত এক মাসের মধ্যে তাদের টিকা না নিলেও চলে। কারণ কমপক্ষে তাদের শরীরে তিন মাস পর্যন্ত রোগের অ্যান্টিবডি থাকে। কাজেই তারা তিন মাস পর নিলেও অসুবিধা নেই। সর্বনিম্ন এক মাস পর নিতে বলা হচ্ছে। তারা যদি এখন টিকা না নেয়, তাহলে যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের দেওয়া যাবে। যাদের কভিড হয়েছে তাদের বলা হচ্ছে এক মাস পর টিকা নিলে অসুবিধা নেই। নিলেও কোনো ক্ষতি নেই। কভিড রোগীদের দিলেও কোনো ক্ষতি হবে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
