ভারতের বায়োটেক কোম্পানির উদ্ভাবিত করোনার টিকা কোভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরীক্ষার সুরক্ষা সংক্রান্তসহ বেশ কিছু তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি)। এখন পর্যন্ত সেসব তথ্য বিএমআরসিকে দিতে পারেনি বায়োটেক। ফলে অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএমআরসি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারত বায়োটেক এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের যৌথ উদ্যোগে তৈরি কোভ্যাকসিন জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় ভারত। বাংলাদেশে এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে চাইছে আইসিডিডিআর,বি।
তবে ভারতে ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো শেষ হয়নি। সর্বশেষ ট্রায়ালের তথ্য-উপাত্ত না পেলেও চলতি মাসে টিকাটি সীমিত আকারে প্রয়োগের অনুমোদন দেয় দেশটি। প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে অবশ্য এটি নিরাপদ এবং মানবদেহে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিএমআরসিতে জমা দেওয়া প্রটোকলের তথ্য অনুযায়ী, বায়োটেক রাজধানীর আটটি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ মোট ৬ হাজার ৪০০ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর পরীক্ষা চালাতে চায়। হাসপাতালগুলো হলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি ইম্পালস হাসপাতাল।
বাংলাদেশে ট্রায়ালের বিষয়ে বিএমআরসির গবেষকরা জানান, এ ধরনের ট্রায়ালের ক্ষেত্রে গবেষণার নৈতিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। কত সংখ্যক মানুষের ওপর এবং কীভাবে এই ট্রায়াল চালানো হবে, টিকার কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হলে তার প্রতিকার কী হবে এরকম নানা বিষয় তারা বিবেচনা করবেন।
বিএমআরসির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত ট্রায়ালের কোনো ছাড়পত্র পায়নি। তাছাড়া কোভ্যাকসিন ট্রায়ালের ফলে কত শতাংশ মানুষ সুস্থ আছে এবং কত শতাংশ মানুষের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। আমরা এ দুটো বিষয়কে বায়োটেকের সামনে উপস্থাপন করেছি। তারা সঠিক তথ্য দিতে পারলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করতে চায়। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান বিএমআরসিতে আবেদন করেছে। আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিলে বিজ্ঞানসম্মতভাবেই দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিএমআরসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বায়োটেক কোভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য নীতিগত অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে। তাদের দেওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা চলছে। আমরা কিছু তথ্য চেয়েছি ভারতের বায়োটেকের কাছে। আমাদের গবেষকরা যদি তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্তুষ্ট হন তখন কমিটিতে আসবে। কমিটি অনুমোদন দিলে তখন ফাস্ট ফেইজ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাবে। এরপর সেকেন্ড, থার্ড ফেইজের বিষয় আসবে। তবে তথ্যগুলো এখনো আসেনি। সে কারণে আমরা সিদ্ধান্তও নিতে পারছি না।
