মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডেতে উইন্ডিজ দ্রুত গুটিয়ে যায়। তাড়া করতে নেমে তাই নিচের ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং-ই করতে পারেননি। সিরিজে প্রথমবার সেই সুযোগটা পেলেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। ব্যাট করতে না পারার আক্ষেপ দূর হলেও এই সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করা হলো কই। ৬৪ রান করেছেন তিনজন- তামিম ইকবাল, মুশফিক রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। ৫১ সাকিব আল হাসান। কিন্তু তামিম-সাকিব-মুশফিকের কেউই তিন অংকে নিতে পারেননি ব্যক্তিগত ইনিংসগুলোকে। একদিক থেকে এটি তাদের ব্যর্থতাও। সিরিজের তিন ম্যাচেই তামিম ইনিংসের শুরু পেয়েছেন। কোনোবারই তা তিন অঙ্কে টানতে পারলেন না। সাকিবেরও একই ভুল। সেট হয়ে আগে থেকে ভেবে রাখা শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন।
ষষ্ঠবারের মতো তামিম, সাকিব, মুশফিক একই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করলেন। গত তিনবারই এমন কীর্তি হয়েছে উইন্ডিজের বিপক্ষে। শেষে মাহমুদউল্লাহর হাফসেঞ্চুরিতে ব্যাটিংয়ে ইনিংসটি বেশি স্মার্টই দেখায় বাংলাদেশের। এক ম্যাচে বাংলাদেশের ৪ সিনিয়র ব্যাটসম্যানের ফিফটির ঘটনা তৃতীয়বারের মতো ঘটল ওয়ানডেতে। এর আগে তারা একই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন ২০১৫ সালে স্কটল্যান্ড ও ২০১৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
চট্টগ্রামে বরাবরই ব্যাটসম্যানদের উইকেট থাকে। কালও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু লিটন দাশ সুবিধাটা নিতে পারলেন না। প্রথম দুই ম্যাচে ইনিংসের শুরু পাওয়া লিটন এবার রান তোলার আগেই ফিরলেন। আলজেরি জোসেফের অফ মিডলে পিচ করে লেগ স্ট্যাম্পে আসা বল বুঝতেই পারেননি লিটন। বল তার পায়ে লাগার সময় ব্যাট ছিল অনেকটা দূরে। নাজমুল হোসেন শান্ত এই ম্যাচেও তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ। দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো এ ম্যাচেও ১৪ রানে জীবন পান শান্ত। গত ম্যাচে করেছিলেন ১৭ আর এবার ফিরলেন ২০ রানে। শান্তকে ফেরানো কাইল মায়ার্স পরের বলেই সাকিব আল হাসানের উইকেট নিতে পারতেন। কিন্তু আউটসাইডেজ হয়ে ওঠা ক্যাচ অল্পের জন্য মিস করেন মায়ার্স। জীবন পেয়ে সাকিব ওয়ানডেতে ৪৮তম হাফসেঞ্চুরি করেন। কিন্তু ৮১ বলে ৫১ রানের ইনিংসে তার টাইমিংয়ে গরমিল হচ্ছিল অনেক। এজন্য ইনিংসে আসে মাত্র তিনটি চার। সেই টাইমিংয়ের ভুলেই উইকেট দেন রেমন রিফারকে। বল লেগ সাইডে সিঙ্গেলের জন্য পুশ করতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন। ধীরে আসা বল দেখে নেওয়ার আগে থেকেই এমন শট নেওয়ার পরিকল্পনা করেই বিপদে পড়েন সাকিব।
এর আগেই বিদায় নেন তামিম। উইন্ডিজের বিপক্ষে অষ্টম ও ওয়ানডেতে ৪৯তম হাফসেঞ্চুরি করে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ৬৪ রানে থামেন জোসেফের শিকার হয়ে। তামিমের বিদায়ে সাকিবের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯৩ রানের জুটি ভাঙে। তবে এ রানেই এই দুজন দেশের হয়ে দুই হাজার পার করেন। ৪৪ ইনিংসে তাদের রান ২০৮১। জুটিতে সবচেয়ে বেশি রান মুশফিক-সাকিবের। ৮৭ ইনিংসে তারা ৩২০৪ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকের। গতকালের ৭২ নিয়ে ৬১ ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ২২১৬ রান।
তামিম-সাকিবের জুটিতে কঠিন সময় পার করে বাংলাদেশ। ১৪.৫ ওভার কোনো চারের মার ছিল না। ১১তম ওভার থেকে শুরু হওয়া সেই বাউন্ডারি-খরা কাটে ২৫তম ওভারের শেষ বলে। এই সময়ে ওভারপ্রতি প্রায় চার করে ৫৪ রান নেয় বাংলাদেশ। রান রেটের গতি বাড়ান মুশফিক। রানিং বিটুইন দ্য উইকেট সচল রেখে নিজের ৩৯তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ৬৪ বলে ৭২ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে ভালো স্কোরের দিকে নিয়ে যান। ২ ছক্কা ও ৪ চারে ৫৫ বলে ৬৪ রানে তার ফেরার পর মাহমুদউল্লাহ দলকে তিনশোর কাছে পৌঁছে দেন। মুশফিকের মতো তার রানও ৬৪। তবে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ২২তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরিতে ছিলেন অপরাজিত। দুজনে মিলে শেষ ১০ ওভারে তোলেন ঠিক ১০০ রান। এরমধ্যে ৭১ রান এসেছে শেষ ৫ ওভারে।
