করোনা বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা উইন্ডিজকে হোয়াইট ওয়াশের আনন্দ দিয়ে উদযাপন করল বাংলাদেশ। গতকাল চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচে অতিথিদের ১২০ রানে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে বঙ্গবন্ধু ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে টাইগাররা। এ নিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করল (ওয়ানডেতে ১৩তম) বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে টাইগারদের ২৬তম সিরিজ জয় এটি।
সিরিজে প্রথমবার আগে ব্যাট করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। দলের চার সিনিয়র-তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর চার ফিফটিতে ৬ উইকেটে ২৯৭ রান তুলে সাগরিকায় নিজেদের সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। এই রান তাড়া করার সামর্থ্য উইন্ডিজের এই দলটির নেই। ৪৪.২ ওভারে ১৭৭ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। রুবেল হোসেনের বদলি সাইফউদ্দিন ৫১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। দুটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ ও মিরাজ। ১টি করে তাসকিন ও সৌম্য। ৪.৫ ওভার করার পর কুঁচকির চোটে মাঠ ছাড়া সাকিব কোনো উইকেট পাননি। তবে ৬ উইকেটের সঙ্গে ১১২ রান করা সাকিব নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ফিরলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে। ৬৪ রানের সঙ্গে ৪ ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা মুশফিক রহিম।
উইন্ডিজ টসে জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলে সিরিজে প্রথমবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয় বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে পরীক্ষারও। বিনা রানে ফেরেন লিটন দাশ। তিন নম্বরে নাজমুল হোসনে শান্ত (২০) আরও একবার ব্যর্থ। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো জীবন পেয়েও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। অভিজ্ঞ তামিম-সাকিব মিলে ভালোই এগোচ্ছিলেন। ৯৩ রানের জুটি গড়ে নিজেদের মধ্যে দুই হাজার রানের জুটির মাইলফলক গড়েন। কিন্তু ৬৪ করে তামিম ফিরলে আরও একবার সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে পড়তে হয় এই ব্যাটসম্যানকে। এরপর সাকিব-মুশফিক জুটি গড়লেও তা ৪৮ রানের বেশি এগোয়নি। সাকিব ফেরেন ৫১ রান করে। রান রেটে একটু পিছিয়ে থাকায় বড় সংগ্রহ পাওয়া কঠিন দেখাচ্ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ৭২ রানের জুটি সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেয়। দুজনই ৬৪ রান করে করেন। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংসে যোগ হয় ১০০ রান। এর মধ্যে শেষ ৫ ওভারেই আসে ৭১।
বিশাল সংগ্রহে নির্ভার হয়েই আক্রমণে নামেন বোলাররা। যথারীতি আগের ম্যাচগুলোর মতো ক্রন ওটলেকে ১ রানে ফিরিয়ে ভালো শুরু এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। চার ওভার পরে সিরিজে তৃতীয়বারের মতো সুনিল অ্যামব্রিসের (১৩) উইকেট নেন ফিজ। নতুন রপ্ত করা ইনসুইং বলে এলবিডব্লিউ করেন অ্যামব্রিসকে। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা স্পেল করা (৪/২৫) মিরাজও মাইল মায়ার্সকে (১১) ফিরিয়ে যোগ দেন ফিজের সঙ্গে। প্রথম স্পেলে রান দেওয়া সাইফউদ্দিন দ্বিতীয় স্পেলে এসেই টানা দুই ওভারে জেসন মোহাম্মদ (১৭) ও ক্রুনা বোনারকে (৩১) ফেরান। ৯৩ রানে ৫ উইকেটে হারিয়ে ততক্ষণে আগের ম্যাচগুলোর মতো অবস্থা উইন্ডিজের। ওই অবস্থা থেকে টানা তৃতীয় ম্যাচে তাদের লড়াইয়ে রাখেন রভম্যান পাওয়েল। সৌম্য সরকারের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে দলীয় সর্বোচ্চ ৪৭ করেন তিনি। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা তাসকিন ২৭ রান করা রেমন রিফারকে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরান। তার আগে আকিল হোসেনকে ফিরিয়ে নিজের তিন উইকেট পূর্ণ করেন সাইফউদ্দিন।
অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক সিরিজেই এমন সাফল্যে তৃপ্ত তামিম, ‘আমরা গত ৮-৯ মাস খুব পরিশ্রম করেছি। দুটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খুব ভালো ভাবেই খেলেছি, যা আমাদের তৈরি রেখেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিকে এভাবে ফেরা অবশ্যই ভালো কিছু। তবে বায়ো-বাবলে থেকে খেলার অভিজ্ঞতাটা আমাদের জন্য ভালো ছিল না। আমরা পরিবারের পাশেই থাকছি কিন্তু তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারছি না। ভবিষ্যতেও এমন কিছু হলে ক্রিকেটাররা হয়তো কয়েকটা সিরিজ মিস করতে পারে।’ সিরিজে ১৫৮ রান করা তামিমের একটাই আক্ষেপ সেঞ্চুরি না পাওয়া। অন্তত হোমগ্রাউন্ডে সেঞ্চুরি পাওয়া উচিত ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
ম্যাচসেরার পুরস্কারে সাকিব কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থ-কোচদের, ‘আমি সবসময়ই ভেবেছি যে যতদিনই বিরতি থাকুক না কেন আমি মাঠে কিছু সময় কাটালেই স্বাভাবিক হয়ে যাব। প্রথম ম্যাচে বোলিংয়ে ভালো করে সেই আত্মবিশ্বাসটা পেয়ে যাই। আর সিরিজে বাকি সময়ে তা আরও বেড়েছে।’
২ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রামেই শুরু হবে দুই টেস্টের সিরিজ। সেই সিরিজেও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার তাগিদ ম্যাচ সেরা মুশফিকের, ‘আমাদের এভাবেই এগিয়ে যাওয়া উচিত এবং সামনে টেস্ট সিরিজেও এই ধারাবাহিকতা রাখতে চেষ্টা করব। টেস্ট একদমই অন্য খেলা। উইন্ডিজ আমাদের চেয়েও বেশি টেস্ট খেলেছে। গত কয়েক মাসেও তারা টেস্ট খেলেছে। আমাদের ওয়ানডের এই পারফরম্যান্স ভুলে টেস্টের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
