এক কড়াইয়ে ৩ হাজার মানুষের খাবার রান্না

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৪:২৪ এএম

কড়াইটির ব্যাস সাড়ে ৮ ফুট ও গভীরতা দুই ফুট। প্রায় ১ টন ওজনের কড়াইটিতে ১ হাজার কেজির বেশি রান্না করা যাবে। এত বড় কড়াইয়ে রান্নার সময় নাড়া দেওয়ার জন্য চারপাশে উঁচু পাকা টুলের ব্যবস্থা রয়েছে। কড়াইয়ের নিচে দাউ দাউ করে জ্বলছে আলাদা চারটি গ্যাসের চুলা। কড়াইটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। এই হলো বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মেগা কিচেনের চিত্র। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা থেকেই তৈরি করা হয়েছে কড়াইটি। এত বড় কড়াই কেউ তৈরি করতে রাজি হয়নি। যিনি কড়াইটা তৈরি করেছেন তিনিও কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কড়াই তৈরিতে না করে দিয়েছিলেন। পরে অনেক অনুরোধ করার পর প্রায় তিন মাস সময় নিয়ে তিনি কড়াইটি তৈরি করেন। বিদ্যানন্দ দাবি করছে, এটিই রান্না করার জন্য দেশে তৈরি সবচেয়ে বড় কড়াই।

গতকাল মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের গদারবাগ এলাকায় মেগা কিচেনে গেলে কথা হয় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের হেড অব কমিউনিকেশন মো. সালমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনার শুরু থেকেই আমরা বড় পরিসরে পথশিশু ও অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করতে থাকি। এত লোকের খাবারের আয়োজন বিদ্যানন্দ অনেক আগে থেকেই করে আসছে। তবে আমরা ভাবছিলাম কীভাবে অল্প সময় ও অল্প শ্রমে বেশি লোকের খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। মূলত শ্রম ও সময় বাঁচাতেই আমাদের এই মেগা কিচেনের পরিকল্পনাটা মাথায় আসে। পরে আমরা এখানে মেগা কিচেনটি স্থাপন করি। এই জায়গাটা প্রায় তিন হাজার স্কয়ার ফুট। জায়গাটা অনুদান দিয়েছেন স্থানীয় প্রিন্টিং ব্যবসায়ী এমদাদুল হক। তিনি নিজেও বিদ্যানন্দের একজন স্বেচ্ছাসেবক ও দাতা।’ সালমান আরও বলেন, ‘তিন হাজার লোকের রান্না করতে অনেকগুলো চুলা ও পাতিল লাগত। অনেক সময় ও গ্যাস অপচয় হতো। আর একসঙ্গে এত খাবার রান্না করতে অনেক লোকেরও প্রয়োজন হতো। এখন মাত্র ৩-৪ ঘণ্টায় মাত্র তিনজন মিলে অনায়াসে ২-৩ হাজার লোকের খাবার রান্না করা যায়, গ্যাসের অপচয়ও কম হয়। বিশাল আকৃতির এই কড়াই তৈরির উদ্দেশ্যই ছিল রান্নার কাজটাকে সহজ করা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত