আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন ‘প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখেই মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমি তার আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। ভোটের দিন আপনারা নৌকার বিজয় নিশ্চিত করুন, আমি আপনাদের একটি পরিকল্পিত চট্টগ্রাম নগরী গড়ে দিতে চাই।’ আজ বুধবার বহুল প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীর নিজ বাসভবনে (বহদ্দার বাড়ি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার বংশগত ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছি। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই যুদ্ধবিধ্বস্ত এ বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা সারাবিশে^ অনুকরণীয়। সারা দেশে চলমান উন্নয়নকাজকে তরান্বিত করতে হলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই আমার প্রত্যাশা, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করুন।’
মেয়র নির্বাচিত হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পরামর্শ নিয়ে চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রেজাউল করিম বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৩৭ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছি। যেখানে জলাবদ্ধতা নিরসন, ১০০ দিনের অগ্রাধিকার, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাল-নদী ও নালা-নর্দমা দখলদার উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটন স্পট গড়ে তোলা, হোল্ডিং ট্যাক্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও আমার বিশেষ কিছু পরিকল্পনা আছে। যেগুলো সবার পরামর্শ নিয়ে আমি বাস্তবায়ন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘চিরসবুজ এ চট্টগ্রাম নগরীকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজাতে আরও অনেক পর্যটন স্পট গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়াও নগরীর স্বাস্থ্যসেবার সুনাম পুনরুদ্ধার করতে চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সৃষ্টি “সিটি করপোরেশন আরবান হেলথ কেয়ার”কে পুনরায় চালু করব। পাশাপাশি আধুনিক ও মানসম্পন্ন কিছু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তুলব। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা চালুর পাশাপাশি নগরীতে নারী উন্নয়নে বেশকিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে নগরীতে গড়ে ওঠা ‘কিশোর গ্যাং’ কঠোরভাবে দমন করা হবে জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘ইদানীং নগরীতে বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। তাদের দমাতে হবে। যারাই এ নগরীতে সহিংস ঘটনার জন্ম দেবে, তাদের কাউকে ছাড় দেব না। কে, কোন দল বা কোন গ্রুপ করে সেটা আমার বিবেচ্য নয়। এর বাইরে নগরীর ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার মাঠের যে সংকট, তা নিরসনে উদ্যোগ নেব এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে আরও বেগবান করতে কয়েকটি স্থানে সাংস্কৃতিক কর্নার গড়ে তুলব। কেননা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় থাকলে কিশোররা আর অপকর্মের দিকে ধাবিত হবে না।’
তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতি আমার দায় আছে। সেজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে, যা এখনো যথাযথ সংরক্ষণ করা হয়নি। কাউকে খাল, নদী-নালা দখল করতে দেব না। যারাই দখলদার আছে, তাদের উচ্ছেদ করে নগরবাসীর চলাচলের পথ মুক্ত করব।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘দুর্নীতিকে প্রধানমন্ত্রী যেমনি কঠোর হাতে দমন করছেন, তদ্রƒপ আমিও দুর্নীতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করব। রাব্বুল আলামিন যদি আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেন, তাহলে সিটি করপোরেশনে কোনো অসৎ ব্যক্তিকে সরকারি সম্পদ নষ্ট এবং দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব, সে যেই হোক না কেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক এখন ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। মাদককে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। মেয়র হলে মাদকমুক্ত নগরী গড়তে যা যা উদ্যোগ নেওয়ার নেব, মাদককে নিয়ন্ত্রণ করবই।’ মাদকমুক্ত নগর গড়তে পারলে সমাজ স্বাভাবিকভাবেই সুষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন নৌকা মার্কার এ মেয়র প্রার্থী।
এদিকে আজ সকাল ৯টার দিকে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বাবা-মার কবর জিয়ারতের পর নগরীর বহদ্দারহাটের এখলাসুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেবেন। এরপর তিনি নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
