দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমান্বয়ে কমছে। পরীক্ষার বিপরীতে নতুন রোগী শনাক্ত হার কমতে কমতে ৩ শতাংশে নেমেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই হার চার শতাংশের ঘরে রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় এ সপ্তাহের কোনোদিনই চারজনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নমুনা পরীক্ষায় ৫১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হার ছিল ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। শনাক্তের এই হার গত বছর ৪ এপ্রিলের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এর আগে গত রবিবার ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা ছিল ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন এবং দেশে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা শুরুর পরও এটাই সর্বনিম্ন শনাক্ত হার। গত প্রায় দেড় মাস ধরেই দেশে করোনার সংক্রমণ কমতির দিকে রয়েছে। শনাক্ত হার ৮ শতাংশ দিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন বছরের প্রথম দিন। এরপর গত ২৬ দিনে তা ক্রমান্বয়ে কমে ৩ শতাংশে এসেছে। গত ৯ জানুয়ারি সর্বপ্রথম শনাক্ত হার ৫ শতাংশের ঘরে নামে। এরপর ১৭ জানুয়ারি প্রথমবার ৪ শতাংশের ঘরে আসে। তার পরের দুদিন সামান্য বেড়ে ৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। ২০ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত টানা শনাক্ত হার চার শতাংশের মধ্যে রয়েছে। যদিও এর মাঝে একদিন এই হার ৩ শতাংশে নেমেছিল।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর জুন-আগস্ট দেশে সংক্রমণের মাত্রা সর্বোচ্চ ছিল। তখন অধিকাংশ দিনই শনাক্ত হার ২০-২৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। সেপ্টেম্বরের পর থেকে সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৪ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আগের দিন মারা গিয়েছিল ১৮ জন রোগী। গতকাল মৃতদের মধ্যে ৮ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ১২ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩২৫তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২০০ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৫৬টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৪ হাজার ৬৯৬ জনের নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ৪০১ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৪৪৭ রোগী সুস্থ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৩২ হাজার ৯১৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৮ হাজার ৫৫ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৬ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫১ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১২ ও নারী ২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ১০৭ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৯৪৮ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৮২ ও নারী ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪ এবং খুলনা ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৯ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৮৩, খুলনায় ৫৪৭, রাজশাহীতে ৪৬০, রংপুরে ৩৫৫, সিলেটে ৩০১, বরিশালে ২৪১ এবং সর্বনিম্ন ১৮৯ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১০, ৫১-৬০ বছরের ২, ৪১-৫০ বছরের ১ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন। সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৫০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ৬৫০ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৫ হাজার ২৬৮ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩৭১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৭২২টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৯৮টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২০৪টিতে।
