দুদকের আরেক জাহালমকান্ডে ক্ষুব্ধ টিআইবি

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:১৮ এএম

‘সরল বিশ্বাসে’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুল তদন্তে ফের নির্দোষ ব্যক্তির সাজার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। সংস্থাটি বলছে, এই (নোয়াখালীর কামরুল ইসলাম) ঘটনা উদঘাটনের পর দুদকের সরল বিশ^াসের ব্যাখ্যা দায় এড়ানোর অর্থহীন চেষ্টা মাত্র। টিআইবি সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতের মাধ্যমে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছে।

জানা যায়, দুদক কর্মকর্তা আসামির ভুল ঠিকানা ও বাবার নাম ভুল দেওয়ায় হয়রানির মুখে পড়েছেন নোয়াখালীর পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের মো. কামরুল ইসলাম। তিনি নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের সহকারী। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই আসামির বাড়ি পশ্চিম রাজারামপুর গ্রামে। শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির মামলায় ১৫ বছরের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নির্দোষ কামরুল। এ ঘটনায় এরই মধ্যে হাইকোর্টের কাছে ভুল স্বীকার করে দুদক কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষয়টি সরল বিশ^াসে ভুল। এ অবস্থায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পরবর্তী শুনানি ও রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছে।

টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, জাহালমের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে একদিকে যেমন এজাতীয় অগ্রহণযোগ্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতো, অপরদিকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাও পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ হতো না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাহালমের ঘটনা থেকে দুদক শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একটি ঘটনার তদন্তকাজ ১০ বছর ধরে চলেছে এবং বারবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও একজন নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের ঘটনা “সরল বিশ^াসে” ঘটেছে বলে আদালতে দুদকের বয়ান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না; বরং পেশাদারত্ব ও জবাবদিহির চূড়ান্ত ঘাটতির ফলে জাহালমের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘জাহালমের ঘটনায় দুদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল কি না, আমরা জানতে পারিনি। দুদকের মতো সংস্থার এজাতীয় “সরল বিশ^াসের” ভুল বারবার সংঘটিত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা বিনষ্ট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা, মান-সম্মান, সামাজিক হেনস্তা ও মানসিক চাপের মতো বিষয়গুলো যেকোনো ধরনের ‘সরল বিশ্বাসের’ কাছে জিম্মি হয়ে থাকলে, তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কখনো কল্যাণকর হতে পারে না। দুদকের সুমতি ও উপলব্ধি ফিরে আসুক। প্রতিষ্ঠানটি আত্মপ্রশ্রয় ও আত্মপ্রসাদ থেকে বের হয়ে আত্মপোলব্ধির মাধ্যমে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করবে এ প্রত্যাশা করছে টিআইবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত