গুলশানে ফখরুল

বিএনপির প্রতিপক্ষ এখন আ.লীগ নয় পুলিশ-প্রশাসন

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ০২:২২ এএম

‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) ক্ষসতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, প্রতিটি নির্বাচনে প্রশাসনকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপির প্রতিপক্ষ এখন আর আওয়ামী লীগ নয়, প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পুলিশ-প্রশাসন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক হুইপ শওকত চৌধুরীর বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

রংপুর বিভাগের বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের বিএনপিদলীয় সাংসদ আমজাদ হোসেন সরকার ভজে’র মৃত্যুর পর এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় বিএনপিতে যোগদান করেছেন শওকত চৌধুরী। এর আগে বর্তমানে স্থগিত সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান ইসি নিরপেক্ষ কোনো সংগঠন নয়। প্রতিষ্ঠানটি এখন সরকারের, আওয়ামী লীগের একটা লেজুড়ভিত্তিক সংগঠনে দাঁড়িয়ে গেছে। মূলত তারা তাদের একটা অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত হয়েছে। অথচ ইসি একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এটার দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। আসলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার ইসি পরিচালনার কোনো যোগ্যতা নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন চায় জনগণ। এই মুহূর্তে ইসির পদত্যাগ করা দরকার, সরকারের পদত্যাগ করা দরকার। কারণ তারা সংবিধানকে লঙ্ঘন করে জনগণের অধিকারকে কেড়ে নিয়েছে এবং বিনা ভোটের একটা বেআইনি সরকার হয়ে আছে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ নির্বাচনে যা হয়েছে, তা আপনারা পত্রপত্রিকায় দেখেছেন। একেবারে রক্তাক্ত, মানুষ মারা গেছে দুজন। বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে থাকতে দেওয়া হয়নি, তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে এখন সভা-সমাবেশ করা যায় না। কিন্তু নির্বাচনের সময়ে কিছুদিন জনগণের কাছে যাওয়া যায়। সে সুযোগটাকে কাজে লাগাতে বিএনপি নির্বাচনে যায়। বিএনপি একটা লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করি। আমরা কখনো ভিন্ন পথে কিংবা বন্দুক-পিস্তল দিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করতে চাই না। বিএনপি জনগণকে নিয়েই ক্ষমতায় যেতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে আরও অনেকে। বিএনপি হচ্ছে একমাত্র দল যারা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারে, যারা দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে। অতীতে বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে, আগামীতেও ফিরিয়ে আনবে।’

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে যোগদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, সৈয়দপুর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল গফুর সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ, সৈয়দপুর বিএনপির সদস্য সচিব শাহীন আখতার, রংপুরের জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের রিয়াজ উদ্দিন, শায়রুল কবির খানসহ সৈয়দপুরের নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত