প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন। সকালে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ঢুকে উইকেট দেখে চমকে যেতে হলো। এমন পিচে উইন্ডিজ পেসাররা বোলিং পেলে তো তাদের জন্য সোনায় সোহাগা। কারণ, মাঠ থেকে পিচ আলাদা করা গেল না। একদম ঘাসে ঢাকা। ঘাসযুক্ত উইকেট বরাবরই পেসারদের দিকে হাত বাড়ায়। কিন্তু ভালো করে লক্ষ করে দেখা গেল সবুজ ঘাস নয়, মরা সোনালি ঘাসের উইকেট। এমন উইকেট অবশ্য ব্যাটসম্যানদের জন্য অতটা ভয়ংকর নয়। তাই হয়ত টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিল উইন্ডিজ। প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিং অনুশীলন করাই তো লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ দলের কতটুকু হলো তা জানা নেই, তবে অধিনায়ক ক্রেইগ ব্যাথওয়েটের একশোতে একশো হয়েছে তা নিশ্চিত। কারণ দিনের শুরু থেকে একপ্রান্ত আগলে শেষ সেশন পর্যন্ত খেলেছেন এই ওপেনার। দিন শেষে তার ৮৫ রানে উইন্ডিজ ৭ উইকেটে ২৩৭ রান করেছে। বিসিবি একাদশের হয়ে খেলা সৈয়দ খালেদ আহমেদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। লেগস্পিনার রিশাদ আহমেদ ৫টি আর ১টি করে উইকেট নেন সাইফ হাসান ও শাহাদাত হোসেন। ৭৫ রানে ৫ উইকেট প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি রিশাদের দ্বিতীয় ৫ উইকেট শিকার।
দিন শেষে ৭.১ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায় বিসিবি একাদশ। তাতে বিনা উইকেটে ২৪ রান তুলেছে দল। বিসিবি একাদশের সাইফ হাসান খেলছেন নির্ভার হয়ে। ২৮ বলের ইনিংসে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন ১৫ রান। অপর প্রান্তে ৩ রানে অপরাজিত সাদমান। আগামীকাল টেস্ট দলে জায়গা পাকা করার ইনিংস খেলতে হবে দুজনকেই।
আগেই জানা ছিল টেস্টের প্রাথমিক দলের ৫ জন খেলছেন এই ম্যাচ। তাদের পারফরম্যান্স দেখে দল ঘোষণা করবেন নির্বাচকরা। উইন্ডিজ আগে ব্যাট করায় ওপেনিং পজিশনে তামিমের সঙ্গে জুটির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা সাদমান ইসলাম ও সাইফ হাসান এবং ইয়াসির আলিকে অপেক্ষায় থাকতে হলো। দিনের শেষেতে অবশ্য ভালোই করেছেন দুজনে। তবে খালেদ আহমেদের বোলিং শুরু থেকেই দেখা গেল। উইন্ডিজকে পরিপূর্ণ অনুশীলন সুবিধা না দিতে প্রস্তুতি ম্যাচের একাদশে ছিলেন না বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ছিলেন না কোনো স্পেশালিস্ট স্পিনারও। ম্যাচের উইকেটও স্পিন-সহায়ক করা হয়নি। তবুও তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও পেসার খালেদ আহমেদের বলই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেননি উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। এই সিরিজে টেস্ট দলে থাকার ভালো সুযোগ আছে খালেদ আহমেদের। মাত্র ২ টেস্ট খেলা এই পেসারকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করতেই হতো। ম্যাচের প্রথম দিন উইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ভালো পারফরম করে দেখালেন খালেদ। দিনের শুরু থেকেই বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এনে নিজেকে টেস্ট দলের যোগ্য প্রমাণ করতে চাইলেন। একটানা ৭ ওভারের স্পেল করে পানি পানের বিরতিতে যান। এরপর আরও এক ওভার করে প্রথম স্পেল শেষ করেন খালেদ। তাতে উইকেট না পেলেও ২ মেডেন নিয়ে ২২ রান দেন। এর মধ্যে তার বলে ব্র্যাথওয়েট দুবার স্লিপে আউট হতে গিয়েও বেঁচে যান পরিপূর্ণ ক্যাচ না ওঠায়।
অবশ্য ব্র্যাথওয়েট ও অপর ওপেনার জন ক্যাম্পবেল দুজনই চার মেরে ইনিংসের শুরু করেন। এরপর ৬৭ রান পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে এগিয়েছেন দুই ওপেনার। দুজনের মধ্যে ক্যাম্পবেল আক্রমণাত্মক খেলছিলেন। কিন্তু তাকেই আগে ফিরতে হয়। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ রান করার পরই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অফস্পিনার শাহাদাত হোসেনের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ আউট হন। অধিনায়তক ব্র্যাথওয়েট তার স্বভাবসুলভ টেস্ট মেজাজের ব্যাটিং করছিলেন। তাতে ১ উইকেটে ৮৯ রানে প্রথম সেশন শেষ করে উইন্ডিজ।
অন্যপ্রান্তে বাকি ব্যাটসম্যানরা ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। লাঞ্চের পর শেন মসলে রিশাদের সোজা হয়ে আসা বলে বোল্ড হন ১৫ রানে। এরপর ক্রুমা বোনার ও কাভেম হজকে দ্রুত ফেরান খালেদ। খালেদের বলে বোনারের ব্যাট ছুঁয়ে যাওয়া বল ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে ধরেন বিসিবি একাদশের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। আর হজকে সিøপে ক্যাচ বানান খালেদ। এ দুজনের মাঝে আউট হন উইন্ডিজ মিডল অর্ডারের ব্যাটিং ভরসা জার্মেই ব্ল্যাকউড। রিশাদের বলে শট খেলতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন তিনি।
এরপর উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া কিছুটা থামে। ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে যোগ দিয়ে ৩৪ রানের জুটি গড়েন জশুয়া দা সিলভা। তবে ২০ রানে পার্টটাইম স্পিনার সাইফ হাসানের বলে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ হয়ে ফেরেন। দ্বিতীয় সেশনে আরও ৯৭ রান আসে উইন্ডিজের। চার বিরতির আগে থেকেই অধিনায়কের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হন কাইল মায়ার্স। নিজের অসাধারণ ব্যাটিং স্কিল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই দেখান এই অলরাউন্ডার। এদিনই সেই স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাটিং দেখালেন। মনে হলো টি-টোয়েন্টি খেলছেন। স্পিনারদের গ্যাপ দেখে মনের মতো শটে চার মারছেন। আবার পেসারদের বিপক্ষেও একই রূপে। সব মিলিয়ে মাত্র ৩৯ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে ফেলেন মায়ার্স। ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে জুটি ৫৩ রানের। ছন্দে থাকা মায়ার্সকে বোল্ট করেন রিশাদ। এরপর পেসার আলজেরি জোসেপ ২৫ রান করে রিশাদের বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। দিনের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে খালেদের বলেই আউট হয়ে সেঞ্চুরি মিসের হতাশা সঙ্গী করেন ব্র্যাথওয়েট। আর শেষ ব্যাটসম্যান শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে ফিরিয়ে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন লেগি রিশাদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২৫৭/১০ (৭৯.১ ওভার) (ব্র্যাথওয়েট ৮৫, ক্যাম্পবেল ৪৪, মোসলে ১৫, বোনার ২, ব্ল্যাকউড ৯, হজ ০, জশুয়া ২০, মায়ার্স ৪০, আলজেরি ২৫, রোচ ৫*, গ্যাব্রিয়েল ৪; খালেদ ৩/৪৬, মুকিদুল ০/৩৬, শাহিন ০/৩৯, শাহাদাত ১/২৯, রিশাদ ৫/৭৫, সাইফ ১/২৬)।
বিসিবি একাদশ : ২৪/০ (৭.১ ওভার) (সাইফ ১৫*, সাদমান ৩*)
