কুয়েতে পাপুলের সাজা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:০৮ পিএম

লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে দণ্ডিত হওয়াকে দেশের জন্য ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

শনিবার তিনি বলেন, ‘ওনার বিচার হয়েছে সেখানে, যেটা আমরা পত্রপত্রিকার মারফতে শুনেছি। ওদেশের সরকার ওনার সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু বলেনি। প্রথম দিকে জানতে চেয়েছিলাম, তারা তখন রেসপন্ডও করে নাই। আর এখন পেপারে দেখলাম ওনার শাস্তি হয়েছে, উনি জেলে আছেন অনেক দিন ধরে। আমরা সরকারিভাবে জানার জন্য আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলেছি’।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় প্রথম বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক টেনিস টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টা তারা আমাদের সরকারিভাবে জানাক, জানালে পরে আমরা সংসদকে জানাব। তখন বিধি মোতাবেক উনার সম্পর্কে কী করা হবে, দেখব’।

আবদুল মোমেন বলেন, স্বদেশের নাগরিক বিদেশে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলে আমাদের লজ্জা লাগে। আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমাদের লোক যখন বিদেশে যদি খুব সম্মান পায়, আমরা সবাই খুব খুশি হই। নিউ ইয়র্কে যখন ট্যাক্সি ড্রাইভার সম্মানিত হয়, কেউ তার গাড়িতে ফেলে গেছে টাকা-পয়সা, সে ফেরত দিয়েছে। তখন মেয়র সাহেব আমাদের বাংলাদেশের নাগরিককে সম্মান দেয়, আমাদের কলিজাটা একেবারে গর্বে ভরে ওঠে। আমাদের দেশের কেউ যদি বিদেশে ক্রাইম করে, তাহলে আমাদের প্রত্যেকের জন্য এটা একটা লজ্জার বিষয়।

তিনি বলেন, ‘কুয়েতের সঙ্গে আমাদের বিভিন্নভাবে সম্পর্ক এবং খুব সলিড ও পুরোনো সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধুর সময় থেকে আমাদের একটি ভালো সম্পর্ক। এই একটি ঘটনায় আমাদের সম্পর্কে কোনো ঘাটতি হবে না। তবে আমাদের দেশের জন্য একটা লজ্জাকর ঘটনা, দুঃখের ব্যাপার’।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এর মধ্যে ঘুরে এসেছি। তারা এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি। কারণ আমাদের দেশের লোক অত খারাপ না। অধিকাংশ লোক ভালো, একটা-দুটা খারাপ বলেই তো আইনকানুনের দরকার। তারাও সেটা জানে। এটা নিয়ে তারা কোনো কথা বলেনি’।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত বছর ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।

পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ আনে কুয়েতি প্রসিকিউশন।

কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের তদন্তে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ বিনিময় ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।

অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছর গ্রেপ্তার পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে কুয়েতের ফৌজদারি আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত