করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা ছাড়া ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া ফলাফলে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গতবার পরীক্ষা দিয়ে এইচএসসিতে ৭৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
জেএসসি-এসএসসির মূল্যায়নের পর গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ প্রায় সাড়ে ৩ গুণ বেড়ে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দুই স্তরে জিপিএ-৫ পায়নি এমন ১৭ হাজার ৪৩ শিক্ষার্থী এইচএসসিতে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পেয়েছে। বিপরীতে আগের দুই স্তরে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পেলেও এবার জিপিএ-৫ বঞ্চিত হয়েছে ৩৯৬ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে ৪ হাজার ৮৬৯ মেয়ে এগিয়ে রয়েছে। গতবার এইচএসসিতে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ২৮৬ শিক্ষার্থী।
গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ফলাফল প্রকাশ করেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিস্তারিত ফলাফল সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ হাজার ৫৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৯ শিক্ষার্থীর ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা না হওয়ায় তাদের সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৪ হাজার, যা অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের গড়ে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির মধ্যে ঢাকা বোর্ড শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এ বোর্ডে ৫৭ হাজার ৯২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সিলেট বোর্ডে সর্বনিম্ন ৪ হাজার ২৪২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ৪ হাজার ৪৮ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪ হাজার ১৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৬৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮ হাজার ৩০২ পরীক্ষার্থী ছিল। শতভাগ পাস হলেও এবার মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ কমেছে। গতবার মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ২৪৩ জন। সে হিসাবে এবার ১ হাজার ৮০৫ জন কমে গেছে।
কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৮৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৬ পরীক্ষার্থী ছিলেন। শতভাগ পাসে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ১৪৫ জন, গতবার ছিল ৩ হাজার ২৩৬। এ বোর্ডেও জিপিএ-৫ কমেছে ৯০৯ জনের। এইচএসসি পরীক্ষায় বিদেশ কেন্দ্রে ২১৫ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২ জন।
জিপিএ-৫ বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ : এইচএসসি ও সমমানের ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন, যা গতবারের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ গুণ। জেএসসি ও এসএসসি দুই স্তরে জিপিএ-৫ না পেয়েও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৪৩ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে জেএসসি এবং এসএসসিতে জিপিএ-৫ না পেয়ে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ৫৭০। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১৫৭। অন্যদিকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও ২০১৯ সালের এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়নি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৮৬৫। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫২ হাজার ৬৩৪। কিন্তু জেএসসি-এসএসসিতে উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও এবার এইচএসসিতে জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছে ৩৯৬ শিক্ষার্থী।
এগিয়ে মেয়েরা : এবার ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩ হাজার ৩৩৮ জন মেয়ে এবং ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮ হাজার ৪৬৯। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে ৪ হাজার ৮৬৯ মেয়ে এগিয়ে রয়েছে। শতাংশের হিসাবে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ মেয়ে; ১১ দশমিক ১০ শতাংশ ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমরা অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরীক্ষা হয়নি। এজন্য সবাইকে উত্তীর্ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে আমাদের পরীক্ষার্থীরা ক্লাসে তাদের সিলেবাস শেষ করেছে। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পেরেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি শিক্ষার্থীরা প্রাপ্ত ফল পেয়ে সন্তুষ্ট থাকবে। তারপরও কেউ নিজের ফলে অসন্তুষ্ট হলে রিভিউ আবেদনের সুযোগ পাবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো দ্রুত এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করবে।’
