আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় টিকা পৌঁছে গেছে। জেলায় জেলায় টিকা পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার থেকে। ওইদিন টিকার প্রথম চালান গেছে বরিশাল ও ভোলা জেলায়। ইতিমধ্যে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী বিভাগের কিছু জেলায় এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলায় টিকা চলে গেছে। আজ রবিবারের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় টিকা পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের পর সরকারি নির্দেশনা পেলেই টিকা প্রদান শুরু হবে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরে বেক্সিমকো ফার্মার ওয়্যারহাউজ থেকে পাঠানো শুরু হয় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা করোনার টিকা। কড়া নিরাপত্তায় ওইদিন ৩৪টি জেলার উদ্দেশে রওনা হয় ২৬ লাখ ৪ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনবাহী ফ্রিজাব ভ্যান। শুক্রবার এবং গতকাল শনিবারও বিভিন্ন জেলায় টিকা পাঠানো হয়েছে। আজকের মধ্যে বাকি জেলাগুলোতে টিকা পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বরিশালে প্রথমবারের ৩ লাখ ১২ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পৌঁছেছে। জেলার সিভিল সার্জন জানান, এ বিভাগে ৭-৮ ফেব্রুয়ারি করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। ১৫ ক্যাটাগরির মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে বরিশাল জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার, পটুয়াখালীতে ৪৮ হাজার, ঝালকাঠিতে ১২ হাজার, পিরোজপুরে ৩৬ হাজার, ভোলায় ৬০ হাজার এবং বরগুনার জন্য ২৪ হাজার টিকা এসেছে বলে জানান তিনি।
রাজশাহীতে ১ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা পৌঁছেছে। সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথম ধাপের ৩৬ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পৌঁছেছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় ৬০ হাজার ডোজ, মেহেরপুরে ১২ হাজার ডোজ, মুন্সীগঞ্জে ৪৮ হাজার ডোজ, নওগাঁয় ৮৪ হাজার ডোজ, ভোলায় ৬০ হাজার ডোজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৮০০ ডোজ, মাদারীপুরে ৩৬ হাজার ডোজ, গোপালগঞ্জে ৩৬ হাজার ডোজ, ঝিনাইদহে ৬০ হাজার ডোজ, মাগুরায় ২৪ হাজার ডোজ, নরসিংদীতে ৭২ হাজার ডোজ ও শেরপুরে ৩৬ হাজার ডোজ টিকা পৌঁছেছে।
কিশোরগঞ্জে এলো প্রায় লাখ ডোজ টিকা : কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাসের ৯৬ হাজার ৬০০ ডোজ টিকা পেয়েছেন সিভিল সার্জন। গত শুক্রবার পুলিশি পাহারায় বেক্সিমকো ফার্মার ফ্রিজারভ্যানে করে এসব টিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়। গতকাল শনিবার সকালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান টিকাগুলো গ্রহণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতুন বড়ুয়াসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোল্ডরুমে টিকার ভায়ালগুলো রাখা হয়।
সিভিল সার্জন জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের এ টিকা প্রয়োগ করা হবে। এখান থেকে উপজেলাগুলোতেও পাঠানো হবে টিকা। তবে কবে থেকে কিশোরগঞ্জে টিকা প্রয়োগ শুরু হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি বলে জানান তিনি।
