তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের কাছে যে প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি বিভিন্ন কেন্দ্র এবং গণমাধ্যম থেকে আজ অনেক সুষ্ঠু হয়েছে, অনেক ভালো একটা নির্বাচন হয়েছে। সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।’ তৃতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মাত্র দুটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়েছে উল্লেখ করে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আরও বলেন, ‘জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ব্যালট পেপার হারিয়ে গেছে। কীভাবে হারিয়েছে সেটি এখন ফাইন্ডআউট হবে। কয়েকটি বই হারিয়ে গেছে, ১০-১২টা বইয়ের পাতা। ব্যালট পেপার হারিয়ে যাওয়ার কারণে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার যারা ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। আর কুমিল্লার বরুড়ায় ব্যালট বাক্স তছনছ করা হয়েছে। সে কারণে সেই কেন্দ্রের ভোটও বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সব কেন্দ্রের ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
তিন ধাপের পৌর ভোটের তুলনা করতে বললে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথম দফা এবং দ্বিতীয় দফায় ব্যালট এবং ইভিএম দুটোই ছিল। আজকেরটা ব্যালটে হয়েছে। আমি বলব যে কোনোটার চেয়ে কোনোটা মন্দ হয়নি। দ্বিতীয়টায় সিরাজগঞ্জে একটা দুঃখজনক ঘটনা না ঘটলে প্রত্যেকটা প্রায় একই রকম হয়েছে। আজকেরটা তো একেবারে শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে সব জায়গায়। মিডিয়ায়ও আমরা তাই দেখেছি।’
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্যালট পেপারে ইসির সিল না থাকার বিষয়টি নজরে আনলে সচিব বলেন, ‘এই রকম তথ্য আমাদের কাছে নেই। ব্যালট গুনলেই সেগুলো দেখা যাবে। গণনার সময় যদি দেখা যায় সিল নেই, তাহলে তো সেগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচন খুবই ভালো হয়েছে।’
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো এই ধরনের কোনো তথ্য নেই। সব কয়টি চ্যানেল দেখেছি। এখন এই রকম কিছু যদি থাকে, আমাদের কাছে রিপোর্ট এলে আমরা জানাব। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তো আছেন। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে রিপোর্ট আসে। সেই রিপোর্টে এই ধরনের কোনো তথ্য নেই।’
কত শতাংশ ভোট পড়তে পারে এ প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, ‘বরাবরের মতো বিশেষ করে মফস্বল এলাকার নির্বাচনে প্রত্যেকটায় উপস্থিতি ভালো। আমরা আশা করছি যে এই ধাপে ৬০ শতাংশের নিচে হবে না। ৬০-৭০ শতাংশ হবে।’
