পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের মামলা করে ধরা খেয়েছেন বাদী। নিজের সতের বছর বয়সী ছেলেকে লুকিয়ে রেখে গত বছরের ২৯ আগস্ট পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয়জনকে আসামি করে এ মামলা করেন আজগর আলী (৫০)।
কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাফর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক দফা অভিযান শেষে গত শুক্রবার রাতে পটুয়াখালীর এক নিকটাত্মীয়ের বাসা থেকে কথিত অপহৃত ও গুমের ভিকটিম আজগর আলীর ওই ছেলেকে উদ্ধার করে রহস্য উন্মোচন করেন। তবে ভিকটিকে উদ্ধারের পর আত্মগোপন করেছেন বাদী আজগর।
থানা পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার দুমকি গ্রামের মৃত আমজেদ আলী হাওলাদারের ছেলে আজগর আলী হাওলাদার (৫০) একই উপজেলার লেবুখালী গ্রামের প্রতিপক্ষ আনোয়ার প্যাদা (৫০), দেলোয়ার প্যাদা (৪৫), আরিফ প্যাদা (২২), রাহাত প্যাদা (২০) ও শাহজাহান প্যাদার (৫৫) বিরুদ্ধে নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রেখে আদালতে অপহরণ ও গুমের মামলা করেন। আদালত মামলাটি দুমকি থানায় এজাহারভুক্ত করে দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। ১৯ সেপ্টেম্বর দুমকি থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত হওয়ার পরবর্তী সময়ে এসআই জাফর এটির তদন্তের দায়িত্ব পান এবং বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পটুয়াখালী থেকে ভিকটিমকে উদ্ধারে সমর্থ হন।
দুমকি থানার পুলিশ হেফাজতে থাকা উদ্ধারকৃত ভিকটিম অপহৃত কিংবা গুম হননি স্বীকার করে জানান, তিনি বাবার (আজগর আলী) নির্দেশে নিজেই বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুমকি থানার এসআই জাফর বলেন, ভিকটিম উদ্ধারের মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হলো বাদী আসামিদের হয়রানি করার উদ্দেশে মিথ্যে মামলা করেছেন। আজগর আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
