দৈহিক গড়নের জন্য সবার দৃষ্টি কেড়েছেন রাহকিম কর্নওয়াল। ১৯২০ সালে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের পর সবচেয়ে ভারী ক্রিকেটার তিনি। ওয়ারউইকের ওজন ছিল ১৩৯ কেজি। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার কর্নওয়ালের ওজন ১৪০ কেজি। এজন্য সতীর্থরা তাকে বিগ জিম, জিমবো, মাউন্টেন (পাহাড়) ও বিগ ম্যান নামে ডাকে। টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেট শিকারি লান্স গিবসের উত্তরসূরি কর্নওয়াল মূলত অফ স্পিনার কিন্তু লোয়ার অর্ডারে ভালো ব্যাটও করেন। এশিয়ায় দ্বিতীয়বার সফরে এসেছেন উইন্ডিজ দলের সঙ্গে। ১ ফেব্রুয়ারি ২৮ বছরে পা দেওয়া এই কর্নওয়ালের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন
দেশ রূপান্তরের শিহাব উদ্দিন
প্রস্তুতি ম্যাচটা আপনার খুব ভালো কেটেছে। এক ইনিংস বল করেই ৫ উইকেট পেয়েছেন। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশে থাকাতে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর জন্যই কি এমন সাফল্য পেলেন?
রাহকিম কর্নওয়াল : আমারও তাই মনে হয়। অনেকদিন এই পরিবেশে থাকাতে কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়েছে। শুধু আমার না পুরো দলেরই। আমি বুঝতে পেরেছি এইরকম উইকেটে বল ফেলার জন্য কোন জায়গাটা সঠিক হবে, কতটুকু গতিতে বল করা যাবে। আসলে সফরের শুরু থেকে এখানে থাকায় ভালো ধারণা হয়েছে।
আপনার তিন টেস্টের একটি উপমহাদেশে। আফগানিস্তানের বিপক্সে লক্ষেèৗর সেই টেস্টে ১০ উইকেট নেন। এবার এশিয়ায় মানে বাংলাদেশে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে এসে প্রস্তুতি ম্যাচেই নিলেন ৫ উইকেট। এখনো অনেক দেশেই আপনার খেলা হয়নি তবুও এশিয়ার উইকেট বেশি পছন্দ করেন মনে হচ্ছে।
কর্নওয়াল : হ্যাঁ, এটা বলা যায়। কারণ এখন পর্যন্ত তো এশিয়াতেই আমার আন্তর্জাতিক সাফল্য সবচেয়ে বেশি। এখন আমি চাই আমার ক্যারিয়ারটাকে আরও এগিয়ে নিতে। শুধু এশিয়ায় না, সবখানেই। এই সিরিজেও ভালো করতে চাই।
জ্যাক ক্যালিস আপনার প্রিয় ক্রিকেটার। তার সঙ্গে আপনার কী মিল? কেন তাকে আপনার পছন্দ?
কর্নওয়াল : আসলে তাকে ভালো লাগার কারণ সে দারুন একজন অলরাউন্ডার। হয়তো সে পেস বোলিং অলরাউন্ডার আর আমি স্পিন। তবে জ্যাক ক্যালিস যেভাবে ব্যাট করে সেটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। এখন তার মতো নিজেকে এগিয়ে নিতে চাই।
টেস্টে আপনি লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করেন কিন্তু সেন্ট লুসিয়ার হয়ে সিপিএলে একজন ওপেনার হিসেবে। দুই ফরম্যাটে দুই রকম দায়িত্বে নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নিয়েছেন?
কর্নওয়াল : আসলে এটা নির্ভর করে দল কী চাইছে তার ওপর। যখন যে দলে খেলি আমাকে সেই দলের প্রয়োজনেই যে কোনো দায়িত্ব পূরণ করতে হয়। টেস্টে আমাকে লোয়ার অর্ডারে রাখা হয়েছে। আমি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সেখান থেকেই দলের জন্য রান এনে দিতে চেষ্টা করি। আর সিপিএলে আমাকে ওপেন করতে বলা হয়। তাই সেখানেও সামর্থ্য মতো সফল হওয়ার চেষ্টা করি।
