করোনা বিরতির পর ক্রিকেটে ফেরা হয়েছে। অপেক্ষা ছিল টেস্টে ফেরার। সেই অপেক্ষারও শেষ হচ্ছে আজ। উইন্ডিজের বিপক্ষে ১৭তম টেস্ট দিয়ে দীর্ঘ বিরতি শেষে সাদা পোশাকে ফিরছে বাংলাদেশ। ফরম্যাট বদলের সঙ্গে উইন্ডিজ দলও বদলাচ্ছে। ওয়ানডেতে যে প্রতিপক্ষকে পেয়েছিল বাংলাদেশ এবার কিন্তু তারা নেই। ওয়ানডের চেয়ে বেশ অভিজ্ঞ ক্যারিবিয়ানরা এবার সামনে। দলটির বোলিং বিভাগে আছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রোচ; ব্যাটিংয়ে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও জার্মেই ব্ল্যাকউডরা। সবচেয়ে বড় কথা করোনার সময়ে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাতেও এগিয়ে ক্যারিবিয়ানরা। তাদের খেলা ৫ টেস্টের বিপরীতে বাংলাদেশ খেলেনি একটিও। এমন অবস্থা ওয়ানডেতে সিরিজ জয়ী বাংলাদেশের সামনে বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। অবশ্য টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক এত কিছু ভাবছেন না মোটেই। তার কাছে চ্যালেঞ্জ নিজেদের ভালো খেলা সামনে আনা। এর জন্য পরিকল্পনাও আছে তাদের। তবে তা প্রকাশ করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
উইন্ডিজের সঙ্গে আগের ১৬ টেস্টে বাংলাদেশের সাফল্য চার জয় ও দুই ড্র। এই চার জয়ের দুটি ২০১৮-তে দেশের মাটিতে। ওই সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল চট্টগ্রামের এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই। ৬৪ রানের জয়ের পর ঢাকাতেও জিতেছিল স্বাগতিকরা। তবে চট্টগ্রামে এই মাঠেই সবশেষ টেস্টটা বাংলাদেশের জন্য বিষাদময়। ২০১৯-এ আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলা একমাত্র টেস্টে হেরে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুমিনুল অবশ্য ভালো খারাপ কিছুই মনে রাখতে চান না। নতুন শুরুতেই মনোযোগ তার। গতকাল জানান, ‘কাল আপনি যা করেছেন, তা ভালো হোক বা খারাপ হোক মনে রাখার দরকার নেই। মনে রেখে আপনি কিছু পাবেনও না। আমিও একইভাবে ভাবছি। আফগানিস্তানের সঙ্গে কী হয়েছিল মনে রাখতে চাই না। সামনের ম্যাচেই মনোযোগ রাখতে চাচ্ছি।’
দলে ৫ পেসার ও চার স্পেশালিস্ট স্পিনার। সাইফ হাসান ও সাদমান ইসলাম দলে থাকায় তামিম ইকবারেল সঙ্গী কে হবে তা চিন্তার বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই সেরা একাদশ বাছাই নিয়ে গলদঘর্ম বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। মুমিনুল ও কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে গতকাল একান্ত আলাপেও দেখা গেল। তার আগে নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর সঙ্গে কথা বলছিলেন ডমিঙ্গো। সেসব আলোচনার ফল কী? মুমিনুল অবশ্য গতানুগতিক উত্তরই দিলেন, ‘আসলে আমরা এখনো ঠিক করিনি। কাল (আজ) সকালে উইকেট দেখে, কন্ডিশন বুঝে সিদ্ধান্ত নেব তিন পেসার, নাকি দুই পেসার খেলাব। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া বা বলা কঠিন। আর তামিম ভাইয়ের সঙ্গী কে হবে সে সিদ্ধান্তও কাল (আজ) নেব।’
এই সিরিজে মুমিনুলের সবচেয়ে বড় পাওয়া সাকিব আল হাসান। আফগানিস্তানের ওই হেরে যাওয়া ম্যাচের পর এই সিরিজ দিয়েই টেস্টে ফিরছেন এই অলরাউন্ডার। নেতৃত্ব পাওয়ার পর কোনোবারই সাকিবকে দলে পাননি মুমিনুল। ইনজুরির কারণে যে দুশ্চিন্তা ছিল তা গত কয়েকদিনে খুব কমেছে। তাই অধিনায়কের আশা, যার অবর্তমানে আর্মব্যান্ড পরেছিলেন সেই সাকিবকে দলে পাবেন এই ম্যাচেই ‘আমার কাছে মনে হয় উনি একের ভেতর দুই। উনি থাকলে টিম কম্বিনেশন ভালো হয়। ব্যাটিং বলুন বোলিং বলুন, দল সাজানো অধিনায়কের জন্য সহজ হয়। তরুণ অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য ভালো একটা সুযোগ। আমি তো আশা করি খেলবে।’
ওয়ানডের মতো টেস্টেও বাংলাদেশ ফেভারিট হয়ে শুরু করছে। কিন্তু ভালো একটি প্রস্তুতি ম্যাচ কাটিয়ে বাংলাদেশকে বার্তা দিয়ে রেখেছে উইন্ডিজ। তাছাড়া পুরোদস্তুর স্পিন পিচ বানালে রাকিম কর্নওয়াল ও ভেরোস্বামী পেরমলরাও যে সুবিধা আদায় করবেন তা বলাবাহুল্য। তার ওপর এমন মরা পিচেও উইন্ডিজ পেসার শ্যানন গ্যাবরিয়েল ও কেমার রোচদের সাফল্যের অতীত আছে। তবে গত কয়েকদিনে ভালো প্রস্তুতি হওয়ায় মুমিনুল আশাবাদী এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে বাংলাদেশ, ‘গতবারও (২০১৮) কিন্তু ওদের এই বোলিং অ্যাটাকটাই এসেছিল। আমরা তাদের বিপক্ষে ভালো করেছি। এবার আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আশাকরি এবারও ভালো হবে। আর কর্নওয়ালকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। সব যদি এখানে বলি দিই তাহলে কীভাবে হবে (হাসি)।’
উইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট উইকেটকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। তার বিশ্বাস গতানুগতিক বাংলাদেশি উইকেটই পাবেন। যেমনটা দেখেছেন অনুশীলন ম্যাচেও। ওই ম্যাচে ভালো করতে পারা ব্র্যাথওয়েট টেস্টেও একই পারফরম করতে চান, ‘গতানুগতিক যে উইকেট দেখেছিলাম, তার চেয়ে পরিবর্তন হবে না। বাউন্স থাকবে না, ধীর ও নিচু হবে। এমন উইকেটেই আমরা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। সেখানে আমি, ক্যাম্পবেল ও বনার রান পেয়েছে। রাকিম ও বাকি স্পিনাররা ভালো করেছে। আশা করি এই অভিজ্ঞতা এই টেস্টে আমাদের অনেক কাজে দেবে।’
