প্রতি বছর অক্টোবর মাসে আয়োজিত হয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। বিশ্ববিখ্যাত এই বইমেলার সময়সীমা সাধারণত পাঁচ দিন। ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্রাঙ্কফুর্ট ধরে রেখেছে তার জনপ্রিয়তা। মহামারীর কারণে গত বছর বইমেলা ডিজিটালি অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ইতিহাস, বর্তমান অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা
সাহিত্য অঙ্গনে জার্মানি বরাবরই সমৃদ্ধ। তাদের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ঐতিহ্যও। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বইমেলায় ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে ৭ হাজারেরও বেশি প্রদর্শক আসেন। প্রথম তিনদিন মেলার দ্বার উন্মুক্ত থাকে ব্যবসার কাজে যারা আসেন শুধু তাদের জন্য। বাকি দুদিন সবার জন্য মেলা খুলে দেওয়া হয়। মেলায় প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ আসেন বই কিনতে, বিক্রি করতে, শিখতে অথবা শুধু উদ্বুদ্ধ হতে। বইয়ের জগতে যুক্ত যে কোনো ব্যক্তির জন্যই এই বইমেলা বছরের অন্যতম আলোচিত এক বিষয়। কোন লেখক কী বই লিখছেন, কারা পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন, কোন কোন প্রকাশক আসছেন এ সবকিছু নিয়ে আলোচনা চলে মেলা শুরুর সময় থেকে। ক্যালেন্ডারের পাতায় এই সময় দাগ দিয়ে রাখেন অনেকেই শুধু মেলায় যোগদানের জন্য। প্রকাশনা জগতে এর গুরুত্ব সম্পর্কে যতই বলা হোক কম বলা হয়।
৫০০ বছর আগে
লেখক, সাহিত্যিক, প্রকাশক থেকে শুরু করে ছাপাখানার মালিকদের মধ্যে পর্যন্ত এই মেলা নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা কীভাবে আর কখন শুরু হলো সেই গল্প জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৬ শতকে। এর আগে ১৪৫০ সালের দিকে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে মেইজ এলাকায় একটি প্রিন্টিং প্রেস চালু করেন জোহান্স গুটেনবার্গ। তার এই উদ্ভাবন প্রিন্টিং জগতে বিপ্লবী পরিবর্তন নিয়ে আসে। গুটেনবার্গ শুরুতে মেইজে প্রেস তৈরি করলেও ফ্রাঙ্কফুর্ট ধীরে ধীরে প্রকাশনার ইন্ডাস্ট্রি হয়ে ওঠে। এর আগে বিক্রেতারা শুধু পা-ুলিপি বিক্রি করত। যখন ছাপানো বই তৈরি করা সম্ভব হলো, তখন মেলায় স্থানীয় বই বিক্রেতারা ব্যবসার জন্য, কেনা বা বিক্রির জন্য বই নেওয়া শুরু করল। সে সময় ফ্রাঙ্কফুর্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। পুরো ইউরোপ থেকে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ শস্য ও মাছ নিয়ে এসে এই এলাকায় বাণিজ্য করত। মূল্যবান বাণিজ্যের তালিকায় আরও ছিল ঘোড়া, মসলা ও কাপড়। বিভিন্ন পণ্য দিয়ে বাণিজ্যের নানা দিক শুরু হলেও ১৫৩০ সাল পর্যন্ত এ শহরে কোনো ছাপাখানা ছিল না। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৪৭৮ সালের মেলায় মুদ্রাক্ষরিক-বই বিক্রেতা যদিও ছিলেন, কিন্তু তাদের কাজ তেমন সম্মানীয় কিছু ছিল না। এরপর ১৪৯৮ সালের বইমেলায়, আলদুস মানুতিয়াসের প্রতিষ্ঠান ‘আলদ্বীন প্রেস’, ভেনিসের বিখ্যাত ছাপাখানাকেও মেলায় অংশ নিতে দেখা যায়। একই সময়ে ডাচ ও ফ্রেঞ্চ ছাপাখানাগুলোও মেলায় যুক্ত হয়।
১৬ শতকে, মেইজ নদী ও লিওনার্ড চার্চের মাঝে বুক স্ট্রিটে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো। এই শতকের মধ্যভাগেই ফেয়ার ক্যাটালগ অনুযায়ী বইয়ের স্বত্ব ঘোষণা শুরু হয়। বই ইতিহাসবিদরা এই ক্যাটালগগুলো একত্রিত করে দেখেছেন, ১৬ শতকের মেলাগুলোতে বিভিন্ন দেশ থেকে বই বিক্রেতারা এসে দোকান দিতেন, সপ্তাহে ২০ হাজারেরও বেশি বইয়ের স্বত্ব বিক্রি হতো, বিশেষ করে লাতিন আর জার্মান ভাষার বইগুলো।
মেলায় যত বই আসত সেগুলো ঘোড়ার গাড়ি অথবা নৌকায় করে আসত। সেগুলো আলাদাভাবে বাঁধাই করা থাকত না। বরং খোলা কাগজগুলো বড় একটি ব্যারেলে (পিপে) প্যাক করা হতো। হাত দিয়ে তোলার বদলে ব্যারেলগুলো ঘুরিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হতো। বইগুলো যেন আর্দ্রতা পায় সেটাও ছিল আরেকটি কারণ। যদিও এই আর্দ্রতা বইয়ের জন্য শত্রু। তখন অবশ্য এগুলো এভাবে কেউ ভাবত না। ছাপাখানার লোকেরা নিজেদের বই সেই ব্যারেল থেকে বের করে নিতেন। একে অন্যের মধ্যে বই বিনিময় প্রথা তখন বেশ প্রচলিত ছিল। এমনকি যদি একজনের জন্য বই বহন কঠিন হতো, অন্যজন তাতে সহায়তা করতেন। সে সময় ছাপাকারকরা ভালো মানের কাগজ, প্রিন্ট করার নানা উপাদান যেমন কালি, ম্যাট্রিস (প্রিন্ট করার জন্য কপারের অক্ষর) ইত্যাদিও কিনতেন।
১৭ শতকে, জার্মানির ৩০ বছরের যুদ্ধে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফ্রাঙ্কফুর্ট। নব্য সংস্কারের কারণে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হয়। যার কারণে এই এলাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমে আসে। বিশেষ করে নন-ক্যাথলিক ছাপাকারকরা ফ্রাঙ্কফুর্ট মেলা এড়িয়ে চলা শুরু করে। তারা মেলা সরিয়ে নিয়ে যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে লিপজিগে। এখানকার বইমেলায় উত্তর এলাকার বাণিজ্যই বেশি হতো। জার্মান, ডাচ, সুইডিশ, কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ান টাইটেলও যদিও বিক্রি হতো, তবে পুরো বিশ্বের সঙ্গে সরাসরি যে যোগাযোগ সেটি সম্ভব হচ্ছিল না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি বিভক্তের পর, পশ্চিম বুন্দেস রিপাবলিক পশ্চিম লিপজিগে প্রবেশের অনুমতি হারায়। ১৯৪৯ সালে, তারা ফ্রাঙ্কফুর্টকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অংশীদারদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মিটিং পয়েন্ট হিসেবে সেট করে। প্রথম এডিশনে ২০৫ জন প্রদর্শক আসেন এখানে, ৮৪০০ ফিচারের জন্য আসেন ১৪ হাজার দর্শনার্থী। বেশ বড় একটা ইভেন্টই বলা যায় একে। তবে বর্তমান সময়ের চেয়ে ২০ গুণ ছোট অবশ্যই। সেই বছরের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা।
পুরনো বইমেলার সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমানের বইমেলায় ভিন্নতা অনেক বেশি। আধুনিকতার শুরুর সময়ে ছাপাখানায় যে কোনো ধরনের বই ছাপানো হতো। ধর্মীয় বই থেকে শুরু করে স্কলারশিপের বই, লাতিন ও স্থানীয় ভাষায় বই সবই ছাপানো হতো। বর্তমানের বইমেলায় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে খুচরা কেনাবেচা হয় না, বরং লেখক, প্রকাশক ও ছাপাকারকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এখানে একেক প্রকাশনীর একেক হল থাকে। দর্শনার্থীরা বই বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের আলাদা আলাদাভাবে ঘুরে দেখতে হয়। এখানে বই বিষয়ক বিভিন্ন চুক্তি যেমন-অনুবাদ স্বত্ব, আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগার সেবা অথবা বিভিন্ন প্রকাশকদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ইত্যাদি মূল আলোচনার বিষয় থাকে। কিছু প্রকাশক কখনোই সঙ্গে করে বই নিয়ে আসেন না। তারা বাড়িতে বসেই অনলাইনে ব্যবসা করতে চান। তারা মেলায় আসেন শুধু পরিচিত হতে। বই সরাসরি বিক্রি না হোক, ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার বিশাল এই জায়গায় নিজেদের পরিচিত করে তোলাও অনেক বড় একটি কাজ বলেই মানেন অনেকে।
বইমেলায় যা হয়
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা যে শুধু বইপ্রিয়দের জন্য মূল ইভেন্ট তা নয়, বই বিক্রেতাদের জন্যও প্রচারের অন্যতম জায়গা। বই নিয়ে সবচেয়ে জরুরি যে বাণিজ্য অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশনার অধিকার ও লাইসেন্স ফি-এর মতো সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় এখানেই। মেলায় উপস্থিত থাকেন প্রকাশক, এজেন্ট, লেখক, ইলাস্ট্রেটর, চলচ্চিত্র প্রযোজক, অনুবাদক, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রতিনিধি সবাই। ব্যবসায়িক দিক ঠিক রাখতে, প্রথম তিন দিন দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। একবার এসব কাজ যখন শেষ হয়ে যায়, তখন দর্শনার্থীসহ যে কেউ এখানে প্রবেশের অনুমতি পান। মেলায় প্রবেশ ফি প্রতি জনের জন্য ২২ ইউরো। টিকিট কাটার পর দেখা করা যাবে সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের লেখকদের সঙ্গে, বিভিন্ন ইভেন্ট ও আলোচনায় অংশ নেওয়া যাবে যেখানে লেখক-সাহিত্যিকরা কথা বলেন।
প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন অতিথি মূল আলোচনায় থাকেন। ১৯৭৬ সাল থেকে শুরু করে প্রতি বছর মেলা থেকে কোনো একটি দেশকে ‘গেস্ট অব অনার’ খেতাব দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে, জর্জিয়ান সাহিত্য এ খেতাবের আলোচনায় ছিল। ২০১৯ সালে, নরওয়েজিয়ান সাহিত্য এই খেতাব পায়। ২০২০ সালে এ তালিকায় যুক্ত হয় কানাডা। এই ইভেন্টে বই পড়া, আত্ম-প্রকাশনা, কসপ্লে (প্রিয় সিনেমা, বই অথবা ভিডিও গেইমের কোনো চরিত্রের মতো সাজা অথবা পোশাক পরা), কবিতা পড়া, মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা, রান্নার বিভিন্ন বই নিয়ে সাজানো গুরমিত গ্যালারিসহ আর নানা বিষয় উপস্থিত থাকে। ১৯৫০ সাল থেকে ‘পিস প্রাইজ অব দ্য জার্মান বুক ট্রেড’সহ বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার রীতিও আছে বইমেলায়। শান্তি ও সহমর্মিতা বজায় রাখেন যে লেখকরা তারাই এ পুরস্কার পান। অফিশিয়াল এসব ইভেন্টের সঙ্গে থাকে হোটেল ও রেস্টুরেন্টও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে আলাদাভাবেই আয়োজন করা হয় এসব জায়গায়।
যেভাবে যুক্ত হওয়া যায় মেলায়
সম্মেলনের এ শহর বইমেলার সময় অন্যতম এক আকর্ষণে পরিণত হয়। প্রতি অক্টোবরের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত এই মেলার অংশীদার হিসেবে থাকে বাণিজ্যমেলা, কংগ্রেস ও বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনা করার মার্কেটিং ও সার্ভিস পার্টনার মেসি ফ্রাঙ্কফুর্ট। মেলা প্রদর্শিত হয় চার মিলিয়ন স্কয়ার ফুট জায়গাজুড়ে। এত বড় মেলায় নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ম্যাপে খুঁজে নিতে হয় অথবা ট্যুর গাইডের সহায়তায় শিডিউল করা ইভেন্টে পৌঁছাতে হয়। ফ্রাঙ্কফুর্টের সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে মেলায় পৌঁছাতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা যায় অথবা ১০ মিনিট পায়ে হেঁটেও আসা যায়। ফ্রাঙ্কফুর্ট কার্ড থাকলে বিভিন্ন শহরে যাওয়ার জন্য ডিসকাউন্ট মেলে, এমনকি বিনে পয়সায় ভ্রমণের সুযোগও আছে। ভ্রমণ তালিকায় শুধু যানবাহন নয়, ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। মিউজিয়ামসহ শহরের আকর্ষণীয় বিভিন্ন জায়গাতেও এই কার্ডের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যায়। এই ট্রাভেল কার্ড ব্যবহার করা যায় শুধু এক বা দুই দিনের জন্য। চাইলে এই কার্ড বদলানো বা ফেরতও দেওয়া যায়। বইমেলায় যদি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে কেউ যায়, তবে সেখানে পার্ক করার ব্যবস্থাও আছে। যদি গাড়ি ভাড়া করতে চান, সেটির সুযোগও মিলবে কাউন্টারে কথা বলে।
সাহিত্য অঙ্গনে প্রকাশিত হওয়া একদম নতুন বই পাওয়া যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায়। প্রিন্টেড, অডিও-বুক, ই-বুক সবকিছুর চাহিদাই এখানে বেশি। রাজনৈতিক ঘটনা এখানে আলোচনা করা হয় না। বাকি যে কোনো বিষয়ের বই নিয়ে স্বচ্ছন্দ আলোচনা এখানে করা সম্ভব।
সংস্কৃতির সঙ্গে বাণিজ্যের মেলবন্ধন
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা মূলত ব্যবসায়িক ইভেন্ট হলেও কেনা, বিক্রি অথবা নেটওয়ার্কিং তৈরির জন্য এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। মেলার এক্সিবিশন, কথাবার্তা, আলোচনা, ইভেন্ট সব মিলিয়েই বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক একটি দারুণ মেলবন্ধন হয়। বইমেলার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে গুরমিত গ্যালারি। এখানে বিদেশি বিভিন্ন খাবার নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ বই পাওয়া যায়। সামাজিক ও সাহিত্যকে শক্তিতে পরিণত করার বিষয়ও এখানে উল্লিখিত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘বুকস সে ওয়েলকম’-এর কথা। এখান থেকে শরণার্থীরা চাইলে পছন্দের বই বাছাই করে নিতে পারে।
করোনায় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা
৫০০ বছর ধরে ইতিহাস ধরে রাখা ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার চিত্র এবার ছিল একদম ব্যতিক্রম। করোনা মহামারীর কারণে গত বছর একই সময়ে অর্থাৎ ১৪-১৮ অক্টোবর বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটালভাবে। মেলা যেহেতু গত বছর করা সম্ভব ছিল না, তাই রীতি না বদলে সেটিকে অন্তত ডিজিটালি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেলার প্রেসিডেন্ট ইয়ুর্গেন বুস। তিনি বলেছিলেন, ‘ফ্রাঙ্কফুর্টের ফেস্টহালেতে মেলা হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া মেলাকে ঘিরে শহরজুড়ে ছিল নানা আয়োজনের পরিকল্পনা। কিন্তু প্রদর্শনী হল ফাঁকা থাকবে বলে ডিজিটাল মেলা করার ভাবনা মাথায় এলো। যারা বইয়ের কপিরাইট বিক্রি করবেন, তারা এখানে সব সুবিধাই পাবেন। মেলার প্রধান আলোচনায় থাকবেন লেখক ও তাদের বই। ফ্রাঙ্কফুর্ট ফেস্টহালের ভার্চুয়াল সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে সারা বিশ্বের গ্রন্থকার ও বইয়ের স্বত্বাধিকারীরা এক্ষেত্রে সব তথ্য পাবেন।’
লেখকরা কীভাবে পাঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কীভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশকরা বিশ্বব্যাপী নিজেদের প্রকাশনা নিয়ে হাজির হতে পারবে সবকিছু নিয়েই পরিকল্পনা ছিল বেশ নিখুঁত। টেলিভিশন, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রামসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেলা নিয়ে প্রচার করা হয়েছে। লেখক-পাঠক মুখোমুখি সাক্ষাৎ, আলাপ-আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না এবারের বইমেলায়, ছিল না সবার সামনে মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ পর্বও। তবু পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান একই রকম ছিল। মেলার শেষদিন ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল পুরস্কারপ্রাপকদের নাম।
