অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের গাফিলতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে অহেতুক জটিলতায় পড়ছেন পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের উদ্যোক্তারা। এতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার কাক্সিক্ষত উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
এ সমস্যা উত্তরণের জন্য গতকাল বুধবার ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে এক সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি তালিকাও সংযোজন করে ব্যাংকগুলোকে পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, দেশের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ২০০৯ সালে একটি পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ওই তহিবলের আকার ছিল ২০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তহবিলের আকার বেড়ে ৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুরুতে ৩২টি পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে পুনঃঅর্থায়ন করা হলেও বর্তমানে এ খাতের ৫৫টি পরিবেশবান্ধব পণ্যে পুনঃঅর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে গ্রাহকদের ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করে ব্যাংকগুলো। চুক্তির আওতায় বিতরণ করা ঋণের সমপরিমাণ অর্থ আবার অংশগ্রহকারী ব্যাংকে জোগান দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাংকগুলো সুদ পরিশোধ করে ৩ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রাহকের দেওয়া সুদের অর্ধেক থাকে ব্যাংকের হাতে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মধ্যে অগ্রাধিকার পাওয়া খাতগুলো হলোÑ রপ্তানিমুখী শিল্পের মুখ্য উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিজনেস প্রসেস অটোমেশন, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, বর্জ্য, বায়ু, তাপ ব্যবস্থাপনা, কর্মপরিবেশ (অগ্নি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা) ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং হিসাবায়ন, ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা, বিপণন, বিক্রয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মেশিনারিজ ও প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রভৃতি।
তবে এসব খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকের অবহেলাকে ভালো চোখে দেখছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার মোরশেদ মিল্লাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের দলিলাদি সঠিকভাবে জমা না দেওয়ায় অর্থায়ন করতে জটিলতার মধ্যে পড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের ঋণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা কাক্সিক্ষত নয়।
তহবিলের ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকদের এই ঋণ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক আগে ঋণ গ্রাহকের অনুকূলে ছাড় করবে। পরে ওই ঋণের সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে নিয়ে নেবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক।
খন্দকার মোরশেদ মিল্লাত আরও বলেন, প্রতিটি ব্যাংকের গ্রাহক ও সর্বস্তরের ব্যাংক কর্মীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।
