যখনই প্রণোদনা দিতে যাই সবাই চায় : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:২৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গবেষকদের কীভাবে প্রণোদনা দিতে পারি, গবেষকরা কীভাবে আমাদের থেকে প্রণোদনা নিয়ে তা সঠিক কাজে লাগাতে পারবে? এজন্য সঠিক উপায় বা পরামর্শ চেয়েছি। কেউ দিতে পারেনি। যখনই প্রণোদনা দিতে যাই, সবাই চায়। অফিসের পিয়নও। কীভাবে সম্ভব? এটাতো সম্ভব না। এটাই আমাদের দেশের সমস্যা।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রকাশিত ‘১০০ কৃষি প্রযুক্তি অ্যাটলাস’-এর প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি যুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গবেষণা বাড়ানো গেলে কৃষিপণ্যের মানোন্নয়ন এবং বাজারজাত করা সহজ হবে। আমরা গবেষণাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিই এবং মনে করি, গবেষণাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিজ্ঞানীদের যত ধরনের সহযোগিতা লাগবে করব। সহযোগিতা কীভাবে করা যায়, সে উপায় বিজ্ঞানীরা বলবেন। আমরা আধুনিক ও উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। সেজন্য নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। আমরা এ কৃষিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। নতুন নতুন কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত করে নিজেদের বাজার ধরে রাখতে হবে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বাইরেও রপ্তানি করতে হবে। স্বল্প খরচে বেশি ফলদায়ক পণ্য আবিষ্কার ও চাষাবাদে মনোযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে গবেষণা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের (বিজ্ঞানী) উদ্ভাবনের জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের উদ্ভাবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ ১০০টি জাত নিয়ে অ্যাটলাস বই প্রকাশ করেছে, একটা ভালো উদ্যোগ। এটি ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগবে। অন্যরা উপকার পাব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোন এলাকায় কোন ফল ভালো হয়, এর একটা ম্যাপিং প্ল্যান দরকার। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ। এখানে অল্প খরচে একেক এলাকায় একেক ফল ভালো হতে পারে। অল্প খরচে অধিক লাভবান হব, এমন কিছু পণ্য গবেষণা করে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটির উর্বরতা, পানির সরবরাহ, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবেশ বিবেচনায় একটা ভালো গবেষণা করে পরিকল্পনা করা দরকার। তাহলে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বাইরেও রপ্তানি করে লাভবান হতে পারি, সেভাবেই আমাদের পণ্য উৎপাদন করা দরকার। যেহেতু কৃষিনির্ভর আমরা, সেজন্য কৃষিকেই গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদনে দেশীয় বাজার ধরতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানি করার মতো সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আমরা খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চয়তার জন্য মাছ-মাংস উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছি। মাছ উৎপাদনে ও গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণের ব্লু-ইকোনমি ঘোষণা দিয়ে তাতেও গুরুত্ব দিয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী পণ্যের চাষাবাদে আমরা প্রণোদনা দিচ্ছি। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদেরও আমরা প্রণোদনা দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, করোনায় বলেছিলাম, আমাদের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্যে যাতে সংকট না পড়ে, পাশাপাশি আমরা যেন অন্যকেও সহায়তা করতে পারি। করোনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে আমরা সাহায্য দিয়েছি। এক্ষেত্রে কৃষিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এই করোনায় কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে ধান কাটিয়ে বাড়ি তোলারও ব্যবস্থা করেছি।’

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রদত্ত সহযোগিতার তথ্যও তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, উজানের ঢল, পাহাড়ি ঢল ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বিশেষ বিশেষ ফসল চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪০২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশীয় ফলগুলো বিদেশি বিভিন্ন ফলের চাইতে বেশি সুস্বাদু হওয়ায় এগুলোর উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে আরও গবেষণার দরকার। তবে এসব ফলের বিভিন্ন প্রজাতি উদ্ভাবনে অরিজিন্যালিটি যেন নষ্ট না হয় সেটাও দেখতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুর কৃষিতে অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি কৃষকদের ২৫ (পঁচিশ) বিঘা পর্যন্ত খাজনা মওকুফ, ১০ লক্ষাধিক কৃষকের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে খাসজমি বিতরণসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উন্নয়ন বাজেটের ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১০১ কোটি টাকা কৃষি উন্নয়নে বরাদ্দ প্রদান করে স্বনির্ভরতা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জাতির পিতা। সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তার সরকার দেশে প্রথমবারের মতো ‘কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ১৯৯৬’ ও ‘কৃষিনীতি ১৯৯৯’, ‘জৈব কৃষিনীতি ২০১৬’, ‘জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮’ এবং ‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০’ প্রণয়ন করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত