চট্টগ্রাম টেস্ট

মিরাজের প্রথম সেঞ্চুরিতে ২য় দিন বাংলাদেশের

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:২৪ এএম

মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটসম্যান না বোলার, এ বিতর্কে আসতে চাইলে গতকালের ১০৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস সাইনবোর্ড হিসেবে রইল। মিরাজ কিন্তু বোলারের আগে ব্যাটসম্যান। যুব পর্যায়ে টপঅর্ডারে ব্যাট করা মিরাজ জাতীয় দলের পরিকল্পনায় নামেন ৮ নম্বরে। এই পজিশনে টেস্ট সেঞ্চুরি করা খুবই কঠিন। উইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ এক সুযোগ পেয়ে কাজে লাগালেন তিনি। তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক পর্যায়েই প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া মিরাজের ব্যাটে চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৩০ রানের বড় সংগ্রহ পেল বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের জোড়া আঘাতে ২ উইকেটে ৭৫ রান তোলা উইন্ডিজের চেয়ে স্বাগতিকরা এগিয়ে এখনো ৩৫৫ রানে।

টেস্টের প্রথম দিন থেকেই একটি সেঞ্চুরির আক্ষেপ ছিল। টপঅর্ডাররা পারেননি, দ্বিতীয় দিন সাকিব আল হাসানের ওপর আশা ছিল বেশি। ফিফটি দিয়ে ১৬ মাস পর টেস্ট আঙিনায় ফেরা সাবেক অধিনায়ক ৬৮ রানে ফেরার পর সেঞ্চুরির আশা মেটালেন মিরাজ। ১০৩ রানের ইনিংসে দলের প্রয়োজনই শুধু মেটাননি, নিজের ব্যাটিং-সত্তারও প্রমাণ রেখেছেন। ৮ নম্বরে নেমে দলকে বড় একটা স্কোরে দাঁড় করিয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার পুরো দিনটাই ছিল তার। দলীয় ২৪৮ রানে উইকেটে আসার পর থেকে নিখুঁত সব শট খেলছিলেন। সত্যিকার ব্যাটসম্যান হিসেবে কেমার রোচের পেস বলে কবজির মোচড়ে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চার মিরাজের ইনিংসের সেরা শট বলা যায়। শুধু এটাই নয়, তার ১৩ চারের প্রতিটি শটই হচ্ছিল ব্যাটের মাঝখান থেকে। ৯৯ বলে হাফসেঞ্চুরি করার পর তিন অঙ্কে পৌঁছাতে নিয়েছেন মাত্র ৬১ বল। ৮ নম্বরে নেমে দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা খালেদ মাসুদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সোহাগ গাজীর সেঞ্চুরির পাশে বসলেন তিনি।

৯২ রানে থাকা অবস্থাতেও নার্ভাসনেস কাবু করতে পারেনি মিরাজকে। ওপাশে ৫৭ রানের জুটি গড়া সঙ্গী নাঈম হাসানকে (২৪ রান) হারান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন মোস্তাফিজ। উইকেট না থাকার সঙ্গে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি মিসের শঙ্কা। কিন্তু মিরাজ সব ভুলে খেললেন সাবলীল। ৯৩ থাকা অবস্থায় জোমেল ওয়ারিক্যানের ওভারের প্রথম বলেই চার মারলেন। পরের বলে ২ রান আর এক বল পর আবারও ২ রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ। কতটা পরিণত ক্রিকেট! ২৪, ৭১ ও ৮৫ রানে থাকা অবস্থায় মিরাজকে তিনবার আউট করার সুযোগ পায় উইন্ডিজ। কোনো সুযোগই সহজ ছিল না, তাই সফলও হতে পারেনি সফরকারীরা। কারণ দিনটি ছিল মিরাজের।

দিনের শুরুতে লিটন দাসকে হারিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। সকালের তৃতীয় ওভারেই ওয়ারিক্যানের বলে লেট কাট করতে গিয়ে বোল্ড ৩৮ রান করা লিটন। সাকিব আল হাসানের সঙ্গী হন মিরাজ। ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে দুজনে এতটাই সাবলীল খেলছিলেন যে বাংলাদেশের চারশো রান মনে হচ্ছিল খুব সম্ভব। আবার ফেরার টেস্টে সাকিবের সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিল, যদিও সাকিব খুব ধীরে খেলছিলেন। আগের দিন ৩৯ রানে চারটি চার মেরেছিলেন কিন্তু গতকাল ২৯ রানে মেরেছিলেন একটি। ক্যারিয়ারের ২৫তম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি করা এই ধীর-স্থির সাকিবও ভুল করে ফেললেন ১৫০তম বলটিতে। রাহকিম কর্নওয়ালকে কাট করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়লেন। তুলে দিলেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের হাতে। শেষ হয় বাংলাদেশ ইনিংসের সবচেয়ে বড় ৬৭ রানের জুটি। দলের রান তখন ৩১৫।

এরপর ভাবনা ছিল মিরাজ টেল এন্ডারদের নিয়ে কতদূর টানতে পারেন দলের ইনিংস। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দায়িত্বপূর্ণ ইনিংসে আগের ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দিলেন মিরাজ। ১৮ রান করা তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়েন। এরপর নাঈমকে নিয়ে আরও ৫৭ রান। শেষ তিন জুটিতে বাংলাদেশ তুলেছে ১১৫ রান, সেখানে মিরাজের অবদান ৬৫। সেঞ্চুরির পর কর্নওয়ালকে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়ে শেষ হয় মিরাজের অসাধারণ ইনিংসটির। বাংলাদেশ ততক্ষণে পেয়ে গেছে কাক্সিক্ষত প্রথম ইনিংস সংগ্রহ।

বোলিংয়ে আসার পর এক পেসার মোস্তাফিজই উইন্ডিজকে কাঁপিয়ে দেন। সে সময় আরেকজন পেসারের অভাব অনুভব করতে পারে বাংলাদেশ। ১০ ওভারের মধ্যে দুই উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ। জন ক্যাম্পবেল ৩ ও শেন মসলেকে ২ রানে। দুটিই এলবিডব্লিউ। উইন্ডিজের ইনিংসটাকে রিভিউয়ের ইনিংসও বলা যায়। ১০ ওভারের মধ্যেই হয় ৫টি রিভিউ। এর মধ্যে বাংলাদেশ তিনটি রিভিউ করে একটিতে সফল হয়। প্রথম ১০ ওভার নড়বড়ে কাটালেও দিনের বাকি ১৯ ওভারে ব্রাথওয়েট ও বোনার ভালোভাবেই কাটিয়ে দেন। ৫১ রানের জুটিতে এগিয়ে চলছেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত