কার্বন নিঃসরণ কমানো

বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:৩৭ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার স্বার্থে বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) এবং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়া-বাংলাদেশ। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসকল্পে বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ণীত অবদান (এনডিসি-ন্যাশনাল ডিটারমাইন্ড কনট্রিবিউশনস) প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিপিআরডির নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা। আলোচনায় অংশ নেন সিপিআরডির সিনিয়ার রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট আকিব জাবেদ ও আল ইমরান।

সংবাদ সম্মেলনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, বাস্তবায়নযোগ্য ও যুগোপযোগী এনডিসি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, পুনর্মূল্যায়িত এনডিসি (জাতীয়ভাবে নির্ণীত অবদান) বিষয়ে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা, সদ্য জমাদানকৃত অন্তর্বর্তীকালীন নথিটির বিশ্লেষণ উত্থাপন এবং এনডিসি বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশে বলা হয়, বাংলাদেশকে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য পুনর্মূল্যায়িত এনডিসি তৈরি করতে হবে। কৃষির মতো দেশের বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল কোনো খাতকে এনডিসিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। গ্রিন হাউজ গ্যাসভুক্ত নতুন কোনো গ্যাসের উদগিরণ হ্রাসের টার্গেট নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে মো. শামসুদ্দোহা বলেন, বর্তমানে বায়ুম-লে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ৪২০ পিপিএম ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ৪ লাখ ২০ হাজার বছরেও দেখা যায়নি। বায়ুম-লে তাপ বৃদ্ধিকারী (তাপ শোষণ ও তাপ ধারণকারী) এসব গ্যাস যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন-মনো-অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্রিন হাউজ গ্যাসের উত্তরোত্তর বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা ইতিমধ্যে শিল্পবিপ্লবের পর্যায় থেকে ১ দশমিক ১০ সে বেড়েছে। ইতিমধ্যে বৈশি^ক উষ্ণতা বৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আবহাওয়াজনিত চরম দুর্যোগ বাড়ছে। মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমেই ঝুঁকিগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় কার্বন উদগিরণের মাত্রা কমানোর জন্য ধনী দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা দায়ভার এড়িয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত