বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুরজিত ঘোষালের স্মৃতিফলক উন্মোচন করেছেন ভারত সফররত তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল শনিবার দুপুরে তিনি কলকাতা প্রেস ক্লাব চত্বরে এ ফলক উন্মোচন করেন বলে তথ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাজনৈতিক সীমারেখায় বাংলাদেশ-ভারত বিভক্ত হলেও দুদেশের মানুষের মনকে বিভক্ত করা যায়নি। দুদেশের এ গভীর সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পৃথিবীকে অবাক করে সোনার বাংলা গড়ার পথে হাঁটছে।’
কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর বলেন, ‘তৎকালীন শব্দসৈনিক সাংবাদিকরা না থাকলে ভারত জানতে পারত না কী অস্থিরতার মধ্যে সেদিনের বাংলাদেশ দিন কাটিয়েছে। আর মুক্তিযুদ্ধে দুজন নয়, সব মিলিয়ে ১৩ জন সাংবাদিক জীবন দিয়েছেন, যা নিয়ে প্রেস ক্লাব কলকাতার শতবার্ষিকীতে একটি পুস্তক প্রকাশ হয়েছে।’
এরপর কলকাতার পিয়ারলেস হোটেলে ‘বাংলা ওয়ার্ল্ড ডটকম’ আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও আলোচনায় কলকাতা এবং মুম্বাই হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখার্জিসহ সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্যমন্ত্রী। পরে সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ লক্ষাধিক বাঙালির উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের ৪৯ বছর পূর্তি দিবসে তিনি স্মরণ করেন জাতির পিতার উদ্ধৃতি ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে’।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে; এখন মানবিক-অর্থনৈতিকসহ সব সূচকে তাদের পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আজ পাকিস্তানের জনগণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নতি দেখে হা-হুতাশ করে; আমাদের মতো হতে চায়, এখানেই স্বাধীনতার বিরাট সার্থকতা।’
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু পশ্চিমবঙ্গের কাছের মানুষ ছিলেন। ১৯৭২ সালের সেদিন দুপুর ১টার মধ্যে কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল ব্রিগেড। ৩টার সময় রাজভবন থেক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী এই ব্রিগেডে আসেন। আমি তখন মঞ্চের নিচে ছিলাম। এটা আজ পর্যন্ত আমার দেখা ব্রিগেডে সর্বকালের সেরা জনসমাবেশ।’
অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সারওয়ার কমল, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ভারতীয়দের হাতে স্মারক তুলে দেন ড. হাছান মাহমুদ ও সুব্রত মুখার্জি। মৈত্রী সম্মাননা ভূষিতদের মধ্যে জাদুকর প্রদীপ চন্দ্র সরকার, সাংবাদিক মানস ঘোষ, সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত, পঙ্কজ সাহা, দিলীপ চক্রবর্তী, মানবাধিকারকর্মী উৎপলা মিশ্রা, অধ্যাপক জিষ্ণু দে ও তার স্ত্রী মীরা দে, প্রণবরঞ্জন রায়, ভাষাবিদ পবিত্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কালজয়ী কবি গোবিন্দ হালদার, কালজয়ী গায়ক মান্না দে, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও সাবেক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ রায়, কংগ্রেস নেতা বিজয় সিং নাহার, ঔপন্যাসিক মৈত্রী দেবী, সমাজসেবী লেডি রানু মুখার্জি, সমাজসেবী ইলা মিত্র, সাংবাদিক পান্নালাল দাশগুপ্ত, বাম নেতা রনেন মিত্র, আকাশবাণী ঘোষক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী, সাংবাদিক উপেন তরফদার, গায়ক অংশুমান রায়, সাংবাদিক দিলীপ মুখার্জি, লোকসভা ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি ও সমাজসেবী ফুলরেনু গুহ, সাংবাদিক বাসব সরকার নিবেদিতা নাগ ও নেপাল নাগের মতো মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রাপকদের পরিবারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
