স্বাস্থ্যসচিবের বাড়িতে হামলা: ওসি প্রত্যাহার

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:০১ পিএম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্বাস্থ্যসচিবের বাড়িতে হামলার পরদিন কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার সকালে ঢাকা রেঞ্জে প্রত্যাহার করা হয় তাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ।

শনিবার স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নানের গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রীর নামে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সহকারী ভূমি কমিশনার আশরাফুল আলমকে লাঞ্ছিত করা হয়।

হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় কটিয়াদী থানায় পৃথক দৃটি মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে কটিয়াদী উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের দাবি, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় সাংসদের অনুগত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান ও সাংসদ নূর মোহাম্মদের বাড়ি একই গ্রামে। স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া জায়গায় সচিবের স্ত্রীর নামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে। ক্লিনিক নির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান শনিবার বলেন, আমার স্ত্রীর নামে এলাকায় একটি ক্লিনিক করছি। তাতে একদল স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন বাধা দিচ্ছেন।

সচিবের ছোট ভাই নাসির উদ্দিন তিনি দাবি করে বলেন, হামলাকারীদের কমবেশি সবাইকে চিনতে পেরেছেন। হামলাকারীদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থক। হামলাটি হয়েছে মূলত চানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ মিয়ার নেতৃত্বে হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম বলেন, ক্লিনিক নির্মাণেও শ্রমিকদের কাজে বাধা দিলে আমি প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমার ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।

স্থানীয় সাংসদ নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি এ ব্যাপারে তেমন কিছু জানি না। জানি শুধু স্বাস্থ্যসচিবের বাড়ির পাশে একটি ক্লিনিক হচ্ছে। ক্লিনিকের রাস্তার জায়গা অন্যজনের, তা এসিল্যান্ড জোর করে ডেকো দিয়ে ভরাট করছে বলে এলাকার কয়েকজন কিছুদিন আগে অভিযোগ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত