শনাক্ত হার দুই শতাংশের ঘরে

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:০৬ এএম

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্তের হার কমতে কমতে দুই শতাংশের ঘরে এসেছে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার নমুনা পরীক্ষায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় দুইজনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গত বছর চার এপ্রিলের পর এটাই সর্বনিম্ন শনাক্ত হার। এছাড়া দেশে ব্যাপকভাবে নমুনা পরীক্ষা শুরুর পর এটাই সর্বনিম্ন হার।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর জুন, জুলাই ও আগস্টে সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় ওঠে। তখন অধিকাংশ দিনই শনাক্তের হার ছিল ২০-২৫ শতাংশের মধ্যে। এর মাঝে একদিন শনাক্ত হার সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশেও ওঠে। সেপ্টেম্বর থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। ক্রমাগত কমতে কমতে গত ১৪ জানুয়ারি শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। তার এক সপ্তাহ পর ২১ জানুয়ারি এই হার ৪ শতাংশের নিচে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি তা ৩ শতাংশের নিচে আসে। এরপর আরও দুইদিন এই হার তিনের নিচে নামলেও তা ছিল তিন শতাংশের ঘরেই। ফলে শনাক্ত হার কমতে শুরুর পর গতকালই প্রথমবার এই হার দুই শতাংশের ঘরে নামল।

গতকাল দৈনিক রোগী শনাক্তও দীর্ঘদিন পর ৩০০-এর নিচে নেমেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন ২৯২ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এদিন করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে আরও ১৫ জন মারা গেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন মৃতদের মধ্যে ১১ জনই পুরুষ এবং ১২ জনের বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ৩৩৬তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২০৬ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৬২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১২ হাজার ৫৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। এরমধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৪০৪ জনের নমুনা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৮ হাজার ২০৫ জন এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫৩১ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৭২ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫২ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১১ ও নারী চারজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২১৭ পুরুষ ও ১ হাজার ৯৮৮ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৭৭ ও নারী ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আটজন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। বাকিদের ছয়জন চট্টগ্রাম এবং একজন রাজশাহী বিভাগের। এ নিয়ে করোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৭২ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫০৯, খুলনায় ৫৫৪, রাজশাহীতে ৪৬৯, রংপুরে ৩৫৭, সিলেটে ৩০৭, বরিশালে ২৪৭ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৯০ রোগী মারা গেছে। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব দশ, ৫১-৬০ বছরের দুই, ৪১-৫০ বছরের এক, ৩১-৪০ বছরের এক এবং ২১-৩০ বছরের ছিল একজন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ৩৯৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ২৮০ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৩ হাজার ৪৮০ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩২৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৪১০টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ১৭৮টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত