মানবতাবিরোধী অপরাধ

১৪ মাস পর ট্রাইব্যুনালে রায় হচ্ছে কাল

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৫:২৮ এএম

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকার ৯ আসামির রায় জানা যাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল মঙ্গলবার রায়ের জন্য এই দিন ধার্য  করে। এর মাধ্যমে ১৪ মাস পর ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলার রায় হতে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের সবশেষ রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর বোয়ালিয়ার আবদুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। এরপর এ মামলায় শুনানি শেষে গত ২৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের এক আদেশে ৯ আসামির রায়ের বিষয়টি অপেক্ষামাণ (সিএভি) ছিল। ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটি হবে ৪২তম রায়। 

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ লম্বা সময় বন্ধ ছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে ট্রাইব্যুনালের একাধিক প্রসিকিউটর ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) বেশ কয়েকজন সদস্য কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন। এর প্রভাব পড়ে বিচার প্রক্রিয়ায়। এ ছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিচারপতি মো. আমির হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যান। সম্প্রতি তিনি চিকিৎসা শেষে ফিরেছেন। গত বছরের ৮ আগস্ট সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলেও শুধু জামিন শুনানিসহ বিচারাধীন মামলাগুলোর সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্কসহ অন্যান্য আইনি বিষয়ের জন্য নতুন করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য, জব্দ তালিকা শনাক্তকরণ ব্যক্তির সাক্ষ্য এবং আসামিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত আবেদন ও আদেশ এবং জামিন শুনানি হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। এ ছাড়া মামলার অন্যান্য প্রক্রিয়ার জন্য সময়ের আবেদন করা হয়। প্রসিকিউটররা তখন জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের বিধান অনুযায়ী অভিযোগ আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন ও রায় দিতে তিনজন বিচারকের উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে এতদিন মামলার বিচারকাজে ধীরগতিসহ রায় দিতে বিলম্ব হচ্ছিল।   

প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রায়ের জন্য বিচারকদের পূর্ণ প্যানেল প্রয়োজন। এতদিন আমাদের একজন বিচারক (বিচারপতি আমির হোসেন) অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যে কারণে দীর্ঘ সময় কোনো রায় হয়নি। কিছুদিন আগে বিচারক সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। তিনি বিচারকাজ শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় হবে। এ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য প্রায় এক বছর ধরে ঝুলেছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।’ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে মামলাটির শুনানিতে আরও ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, জাহিদ ইমাম ও  তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

২০১৮ সালের ৪ মার্চ এ মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ আসে ট্রাইব্যুনাল থেকে। আসামিদের মধ্যে মো. আবদুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচার চলাকালে মারা যান। এ ছাড়া আরেক আসামি নুরুল আমিন পলাতক অবস্থায় মারা যান। ৯ আসামির মধ্যে মো. খলিলুর রহমান মীর, মো. শামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, মো. আবদুল্লাহ, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী ও আবদুল লতিফ কারাগারে আছেন। পলাতক রয়েছেন এ এফ এম ফয়জুল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক  ম-ল, সিরাজুল ইসলাম তোতা ও আলিম উদ্দিন খান। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকা এলাকায় হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতনের মতো অভিযোগে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ওই বছরের ১০ মে থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। ২০১৯ সালের ১৫  সেপ্টেম্বর মামলার সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি শুরু হয়। এরপর গত বছরের ২৬ জানুয়ারি শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত