ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য প্রযুক্তি ভিত্তিক যন্ত্রপাতি এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কল-কারখানায় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণের মধ্যেও টেকসই অর্থনীতিতে এই ধারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
বুধবার এডিবি’র প্রকাশনা এশিয়ান ইকোনমিক ইন্টিগ্রেশন রিপোর্ট -২০২১ এ বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তসীমান্ত বিনিয়োগ, আর্থিক সম্পৃক্ততা ও জনগণের চলাচলের ওপর করোনার প্রাথমিক প্রভাব যাচাই করা হয়েছে।
এই রিপোর্টে ইনক্লুসিভ ও টেকসই উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভূমিকা ও গুরুত্ব, ডিজিটাল প্রযুক্তি এ অঞ্চলে করোনা পরবর্তীতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
এডিবি’র মুখ্য অর্থনীতিবিদ ইয়াসুযুকি সাবাদা’র উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাকালে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা থেকে ভোক্তা রাজস্ব ৩.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রাজস্বের মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত অঞ্চলে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ, বা ১.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা অঞ্চলের জিডিপি’র ৬ শতাংশের সমান।
২০২০ সালে এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়। কেন না এ সময়ে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টায় বিধিনিষেধ আরোপিত হওয়ায় ই-কমার্সের মাধ্যমে অধিক ব্যবসা-বাণিজ্য হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গড়ে বছরে বৈশ্বিক ব্যবসা ৪.৩ ট্রিলিয়ন বেড়ে ডিজিটাল সেক্টরের আকার ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়া ও প্রশান্ত অঞ্চলে বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৭ ট্রিলিয়ন অথবা ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে মোট ৮.৬ ট্রিলিয়নের বেশি হতে পারে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সমূহে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
প্রতিবেদনে তথ্য প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা এবং সরকারি ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
