পরিকল্পনা কমিশন ও জাইকার যৌথ কর্মশালা

প্রকল্প বাস্তবায়নে মনিটরিং জোরদারের তাগিদ জাইকার

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:২৪ এএম

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলমান প্রকল্পের মানসম্মত বাস্তবায়নে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। সংস্থাটি বলছে, করোনার পর ফলপ্রসূ প্রকল্প নির্বাচন, মানসম্মত বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থাপনার কাজটা পরিকল্পিত হওয়া উচিত। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘এডিপির খাত পুনর্গঠন’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ এবং জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। কর্মশালায় জাইকার পক্ষ থেকে এ তাগিদ দেওয়া হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইউহু হায়াকাওয়া, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য সরকারের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম, কার্যক্রম বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ জয়নুল বারি, কৃষি, পানি ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশিদ ও শিল্পশক্তি বিভাগের সদস্য রামেন্দ্র নাথ বিশ^াস।

কর্মশালায় জাইকার প্রতিনিধি ইউহু হায়াকাওয়া বলেন, করোনার ধাক্কা এবং বিশ্বব্যাপী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে অনেকে চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলপ্রসূ প্রকল্প নির্বাচন, মানসম্মত বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থাপনার কাজটা পরিকল্পিত হওয়া উচিত। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মশালায় জানানো হয়, খাতভিত্তিক উন্নয়ন নীতির মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনের তত্ত্বাবধানে এ কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। তবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, এডিপি ও সংশোধিত এডিপিতে খাতভিত্তিক ধারাবাহিকতা থাকে না। এছাড়া ১৭টি খাতে এসব উন্নয়ন কর্মকা- চলে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় থাকে না। ফলে সময়মতো এবং মানসম্মত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বয় বাড়াতে উন্নয়ন খাতের সংখ্যা কমিয়ে ১৪টিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ১৪ খাততে ৭২টি উপ-খাতের আওতাভুক্ত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বিন্যাস এবং বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করে থাকে। বাজেট তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে এডিপির খাত পুনর্গঠনের প্রস্তাবটি মন্দ নয়। এটা ভেবে দেখা যেতে পারে। কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, দিনের ফাইলটা দিনেই ছাড়ুন। চাকরি নীতিমালা অনুযায়ী সময়ের কাজ সময়ে করুন।

পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ তৈরি করা হয়। এটি উপস্থাপন করেন কার্যক্রম বিভাগের সমন্বয় শাখার যুগ্ম প্রধান সায়দুজ্জামান। এতে বলা হয়, এডিপিতে খাত বিভাজন শতভাগ সমন্বিত নয়। এডিপিতে ১৭টি খাতের পরিবর্তে ১৪টিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন তিনি। ৭২টি উপ-খাতের মাধ্যমে গোটা এডিপিকে সুসমন্বিত করা যায়। শিক্ষা এবং ধর্মকে একীভূত করে শিক্ষা এবং ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও গণযোগাযোগকে বিনোদনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়।

কর্মশালার সব বক্তাই এডিপি পুনর্গঠনের পক্ষে কথা বলেন। আগামী বছরের বাজেটের আগেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য পেশ করার পরামর্শ দেন তারা। তাদের মতে, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে উন্নয়ন কর্মকান্ড বিভিন্ন খাতভিত্তিক। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এডিপির মতো উন্নয়ন উদ্যোগগুলো পরিকল্পনা কমিশন করে থাকে। অন্যদিকে জাতীয় বাজেট প্রণীত হয় প্রশাসনিক পন্থায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় এ কাজটি করে থাকে। এতে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত