পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প থেকে স্ক্র্যাপ লোহা চুরিচেষ্টাকে কেন্দ্র করে প্রকল্পের এক সাব-ঠিকাদারকে পিটিয়ে আহতের ঘটনায় থানায় অভিযোগের প্রতিবাদে ঈশ্বরদী শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। গত বুধবার রাতে ‘সচেতন জনতা’র ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে রাতেই স্থানীয় এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে মো. তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা রড চুরির অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস এবং তার ছেলে তীহা বিশ্বাস অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী দোলন বিশ্বাসের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার প্রতিবাদে গত বুধবার সন্ধ্যার পর ঈশ্বরদী শহরে ‘সচেতন জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলা পাওয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা প্রকল্পের অভ্যন্তরে আবর্জনা পরিষ্কার ও সরিয়ে ফেলার সময় আবর্জনার মধ্যে লুকিয়ে প্রতিনিয়ত স্ক্র্যাপ লোহাসহ প্রকল্পের মূল্যবান বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পাচার করে আসছেন। তবে এ বিষয়ে রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে ‘সচেতন জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের পরপরই রাতে শহরের একটি পার্টি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন সাংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাস। সেখানে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্পে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে যেখানে ইচ্ছে করলেই কেউ প্রবেশ করতে বা বের হতে পারে না, সেখানে পাঁচ ট্রাক লোহা চুরি সম্ভব কি না তা বিবেকবান সকলের কাছে আমার প্রশ্ন? আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, সদ্য বিদায়ী মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, দাশুড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান বকুল সরদার, ঈশ্বরদী কলেজের সাবেক ভিপি মুরাদ আলী মালিথা, শ্রমিক লীগ নেতা জাহিদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা, যুবলীগ নেতা মোশাররফ হোসেন নয়ন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমজাদ হোসেন, মিজানুর রহমান মিজান, বিশাল হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলা পাওয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’
এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প থেকে এমপিপুত্র তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাসের নেতৃত্বে পাঁচ ট্রাক লোহা চুরিচেষ্টার খবর কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়ায় বাংলা পাওয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ উঠে। গত মঙ্গলবার দুপুরে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পসংলগ্ন নতুন হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মীরা চুরি যাওয়া লোহাসহ পাঁচটি ট্রাক আটক করে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করলেও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
