আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

গ্রেপ্তার দেখানো হলো আত্মসমর্পণ করতে আসা ফয়জুল্লাহকে

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৩৫ এএম

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সময় আত্মসমর্পণ করতে আসা এ এফ এম ফয়জুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকার তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদ- এবং অপর পাঁচ আসামিকে ২০ বছর করে কারাদন্ড দেয় বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে যে তিনজনের আমৃত্যু কারাদন্ড হয় তাদের একজন ফয়জুল্লাহ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে জানান শাহবাগ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে রায় পড়া শুরু হওয়ার আগে ট্রাইব্যুনালের মূল ফটকের সামনে চেক লুঙ্গি, সাদা পাঞ্জাবির ওপর কালো সোয়েটার ও গায়ে চাদর পরিহিত আনুমানিক ৭০ বছর বয়সের এক ব্যক্তি ফটকের সামনে এসে দাবি করেন, তিনি এই মামলার পলাতক আসামি এ এফ এম ফয়জুল্লাহ। ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করতে চান। তবে, তার সঙ্গে এ সময় কোনো আইনজীবী ছিলেন না। নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা তাকে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে না দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাকে ফটকের সামনে থাকা অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে যান। এরপর পুলিশ বিষয়টি জানায় প্রসিকিউশন শাখায়। পলাতক থাকা আসামি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে এসেছেন এমন খবরে শুরু হয় তোলপাড়। পরিচয় নিশ্চিত হতে শুরু হয় তৎপরতা। দুপুরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শাহবাগ থানায়। তার বিরুদ্ধে আগে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং পরিচয় নিশ্চিত হতে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাগলা থানায় যোগাযোগ করা হয়। ওসি মামুন অর রশীদ বলেন, ‘ফয়জুল্লাহকে গ্রেপ্তারে আগেই পরোয়ানা ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে জানতে পারি তিনিই আমৃত্যু কারাদন্ড প্রাপ্ত ফয়জুল্লাহ। এরপর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাগলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত