মিয়ানমারে সামরিক জান্তা নেতার বিক্ষোভ, গণজমায়েত বন্ধের আহ্বান উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নেত্রী অং সান সু চির সমর্থকরা। এর মধ্যেই সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার ২৩ হাজারেরও বেশি বন্দির সাজা মওকুফ করেছে। গতকাল শুক্রবার সাধারণ ছুটির দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের এ ঘোষণা আসে। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, মিয়ানমার সরকারের জন্য প্রতিশ্রুত ৪ কোটি ২২ লাখ ডলারের আর্থিক সহায়তা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতার দখল নেয় সেনাবাহিনী। আটক করে নেত্রী সু চিকে, জারি করে এক বছরের জরুরি অবস্থা। এরপর থেকেই জান্তার বিরুদ্ধে জনরোষ বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রতিজ্ঞায় টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ হয়েছে মিয়ানমারজুড়ে। রাজধানী নেপিদোর রাস্তায় শত শত প্রতিবাদকারী লাইন ধরে দাঁড়িয়ে জান্তাবিরোধী সেøাগান দিয়েছে, সু চির সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। অভ্যুত্থান রক্তপাতহীন হলেও গণবিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ শুরু করেছে জান্তা।
মঙ্গলবার এক নারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বিক্ষোভ দমেনি। ওইদিনই প্রথম বিক্ষোভে রক্ত ঝরেছে। রাজধানী নেপিদোতে সেদিন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মিয়ানমার পুলিশ প্রথমে জলকামান এবং পরে রাবার বুলেট ব্যবহার করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ সামরিক জান্তার শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ৪ কোটি ২২ লাখ ডলারের আর্থিক সহায়তা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়েছে, ওই অর্থ মিয়ানমার সরকারের কাজে লাগত। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়ন করে এই সহযোগিতা না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে ২৩ হাজরেরও বেশি বন্দির সাজা মওকুফ করার বিষয়ে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের ঘোষণায় বলা হয়, শান্তি, উন্নয়ন ও শৃঙ্খলাসহ মিয়ানমার যখন একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করছে তখন বন্দিদের নির্দিষ্টভাবে ভদ্র নাগরিক হিসেবে পরিণত করতে, জনগণকে সন্তুষ্ট করতে এবং মানবিক ও সহানুভূতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে বন্দিদের সাজা মওকুফ করা হয়েছে।
