দেশের মাটিই ছিল শাহীন রেজা নূরের শেষ চাওয়া

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৪:০০ পিএম

কানাডার ভ্যাংকুভারের একটি হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন সাংবাদিক ও শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান শাহীন রেজা নূর। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার শেষ ইচ্ছা ছিল দেশের মাটিতে শায়িত হবেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও কানাডার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

প্রজন্ম ‘৭১ এর সাবেক এ সভাপতি অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে ভুগছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

শাহীন রেজা নূরের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।

১৯৫৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, মাগুরা জেলার শালিখা থানার শরশুনা গ্রামে শাহীন রেজা নূরের জন্ম। তার বাবা শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সাবেক বার্তা ও কার্যনির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের দোসরদের বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞের নির্মম শিকার হন তিনি। শাহীনের মা বেগম নূরজাহান সিরাজী ছিলেন গৃহিণী।

১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক করেন শাহীন রেজা নূর। পরের বছর ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে অল্প কিছুদিনের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে যান। কর্ম জীবনের মাঝে ২০০১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭২ সালে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে বার্তা বিভাগে অনুলিপিকার হিসেবে চাকরির মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এবং অল্পদিনের মধ্যে অনুবাদকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে দৈনিক ইত্তেফাকের শিক্ষানবিশ সহ-সম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৮১ সালে সাংবাদিকতার ওপর কমনওয়েলথের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে মালয়েশিয়াতে যান। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আবার ইত্তেফাকে যোগ দেন। একটানা ১৬ বছর ইত্তেফাকে থাকার পর ১৯৮৮ সালে কানাডা চলে যান।

মন্ট্রিয়েল থেকে বাংলা সাপ্তাহিক প্রবাস বাংলা প্রকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তা ছাড়া ইমিগ্রেশন লইয়ারদের সঙ্গেও অনুবাদকের কাজ করেন। কানাডা থেকে দেশে ফিরে আবার দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন। দৈনিক ইত্তেফাকে তিনি নির্বাহী সম্পাদক থাকা অবস্থায় চাকরি ছেড়ে দেন।  তিনি জাতীয় রাজনীতি, সামাজিক,  সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিষয়ের ওপরও পত্রিকাতে প্রচুর লেখালেখি করেন। পারভেজ মেশাররফ ও বিল ক্লিনটনের বইয়ের অনুবাদ করেন।

শাহীন রেজা নূর প্রজন্ম ’৭১–এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জোরদার করা ও মুক্তিযুদ্ধের  অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণসহ আরও বেশ কিছু বিষয়। শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ আরও অনেক সংগঠনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সমকালীন  বিষয়ের ওপর ‘সময়ের সংলাপ’ নামক একটি টকশোর উপস্থাপক ছিলেন।

তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় ১৯৭১ সালের নৃশংস বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শাহীন রেজা নূর।

১৯৮২ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক সংসদ সদস্য শামসুদ্দীন মোল্লার মেয়ে খুরশীদ জাহানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শাহীন। তাদের দুই ছেলে সৌরভ রেজা নূর ও আবির রেজা নূর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত