মার্জিন ঋণ সংকট ও মূলধনী মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রভাবে গত সপ্তাহের শুরুতে বড় দরপতন দেখা দেয় দেশের পুঁজিবাজারে। এতে করে প্রথম দুই দিনে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ২৭০ পয়েন্ট কমে যায়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পদক্ষেপে গত সপ্তাহের তৃতীয় দিনে দরপতন থামলেও মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই সপ্তাহ শেষ করে। তবে এ সময়ে লেনদেনে সামান্য উন্নতি হয়েছে।
গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৩৬৬টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানির লেনদেন বাদ দিলে গত সপ্তাহে ৯১ শতাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এতে করে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১৬২ পয়েন্ট হারিয়েছে। তবে দরপতনের এ সময়টাতে অনেকেই কম মূল্যে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। এতে করে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে গড় লেনদেন ছিল ৮১৭ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে করে ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে। মহামারী করোনায় টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পরবর্তী সাড়ে সাত মাসে পুঁজিবাজারের উল্লম্ফনে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচকের পয়েন্ট ৩৫ শতাংশ বাড়ে। গড় লেনদেনও প্রায় ২০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হতে দেখা যায়। সে সময়ের চাঙ্গা বাজারে ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানির সংখ্যাও কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজার পরিস্থিতির অস্থিরতায় ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানির সংখ্যাও বাড়ছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারির লেনদেন শেষে ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানির সংখ্যা ৯২টিতে উন্নীত হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি এ সংখ্যা ছিল ৫৬-তে। আর গত ৭ জানুয়ারি ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানি ছিল ৩৯টি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগামী জুলাইতে মার্জিন ঋণের সুদহার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনার অংশ হিসেবে এখন থেকেই বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তা সমন্বয় করতে শুরু করেছে। একই সময়ে শেয়ার কেনায় কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন করে মার্জিন ঋণও দিচ্ছে না। এর ফলে বাজারে হঠাৎ করেই ক্রেতা সংকট তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাজারে নেতৃত্বে থাকা কিছু শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফাও তুলে নিতে দেখা গেছে। এসব কারণেই বড় ধরনের বিক্রিচাপে পড়ে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে।
গত সপ্তাহে বেশিরভাগ খাত দর হারালেও বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্যাংক, এনবিএফআই, সিমেন্ট, জ্বালানি ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে এনবিএফআই খাতের। এ খাতের কোম্পানি থেকে মূলধনী মুনাফা তুলে নেওয়ায় গত সপ্তাহে খাতটির বাজার মূলধন কমেছে ৭ শতাংশের বেশি। এ সময় লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও জিএসপি ফাইন্যান্সের দর ১০ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
গত সপ্তাহে সিমেন্ট খাত ৬ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। এছাড়া সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী খাত ব্যাংকের শেয়ার গড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। বড় মূলধনী শেয়ারের দরপতনে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন ২ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৬২ পয়েন্ট কমে ৫৪৮৫ পয়েন্টে নেমেছে।
