কেসিসির ৩ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কার্যাদেশ বাতিল

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:১৪ এএম

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) একটি প্রকল্প থেকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)। সম্প্রতি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে বিএমডিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাসিনুর রহমানের স্বাক্ষরে পাঠানো এক চিঠিতে প্রকল্প থেকে ওই কাজ বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ফলে প্রকল্পটির অব্যবহৃত অর্থ ফেরত যাওয়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে তার কোনো মূল্য থাকল না। প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দায়বদ্ধতা ও তদারকির অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন খুলনার নাগরিক নেতারা।

খুলনা সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর ১৮নং রাস্তার (ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কের সামনে) ১ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার, চরের হাট মেইন রোডের ১ দশমিক ৬২ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ এবং টাইলস দিয়ে ফুটপাত উন্নয়নের উদ্যোগ নেয় কেসিসি। এরপর নানা প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বিএমডিএফের আওতায় মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স সার্ভিসেস প্রজেক্টের (এমজিএসপি) অর্থায়নে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিয়াউল টেডার্স। ২০১৯ সালের ১২ জুন ওই ঠিকারদারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যা বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২০ সালের ৩১ মার্চ। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথম দফায় কাজ শেষ করতে না পারায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের খালিশপুর ১৮নং রাস্তার  ১ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এবং চরের হাট মেইন রোডের ১ দশমিক ৬২ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ শুরুই করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের বাকি দুই মাসে সড়ক দুটির কর্পেটিংয়ের কাজ সমাপ্ত করা অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গত ২১ জানুয়ারি বিএমডিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাসিনুর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে প্রকল্প থেকে এ কাজ বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলা সম্পাদক খুদরত-ই-খুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়বদ্ধতার অভাবে প্রকল্পটিতে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লুটপাট-দুর্নীতি ও পকেট ভারী করতে কর্মকর্তারা ঠিকাদারকে এ সুযোগ করে দিয়েছেন। চাপ না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারছে না। অন্যদিকে কার্পেটিং না হওয়ায় প্রকল্পে যে অর্থ খরচ হলো তার কোনো মূল্য থাকল না, বরং ক্ষতিই হলো। তাই যেকোনো প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও সুফল পেতে জনগণের সম্পৃক্ততা দরকার।’

বিএমডিএফের আওতাধীন প্রকল্পটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে আছেন প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ড্রেন নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্ত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিয়াউল ট্রেডার্স সময় বাড়িয়েও সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ আরম্ভ করতে পারেনি। সংগত কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।’

কার্পেটিংয়ের ব্যয় বাবদ নির্ধারিত টাকার এখন কী হবেÑএমন প্রশ্নের উত্তরে এই প্রকৌশলী বলেন, ‘দু’টি সড়কে কার্পেটিং বাবদ আড়াই কোটি টাকা ধরা আছে। এ টাকা ফান্ডেই ফেরত যাবে।’

নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করতে না পারায় রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই প্রকল্পের কাজ সমাপ্তে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। তাই মার্চ পর্যন্ত চুক্তি বলবৎ রাখতে মেয়র মহোদয় বিএমডিএফ কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন।’

আর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক অংশীদার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সড়কের অনেক জায়গা অবৈধ দখলে ছিল। ফলে সময়মতো সড়ক বুঝে পাওয়া যায়নি। সংগত কারণে প্রকল্প সমাপ্ত করতে বিলম্ব হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত