দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমান্বয়ে কমছে। গতকাল শনিবার সাড়ে ১০ মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজারের কিছু কম পরীক্ষায় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় দুজনের মধ্যে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের এই হার গত ৩১৫ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে গত বছর ৪ এপ্রিল এরচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যদিও সেদিন পরীক্ষা হয়েছিল মাত্র চার শতাধিক। তাই বলা যায়, দেশে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ও নমুনা পরীক্ষা শুরুর পর গতকালেরটাই সর্বনিম্ন শনাক্ত হার। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যাও গত প্রায় ১০ মাস পর ৩০০-এর নিচে নেমেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন ২৯১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত বছর ১৭ এপ্রিল এরচেয়ে কম ২৬৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
শনাক্ত কমলেও গতকাল দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এদিন ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন করোনা রোগী মারা গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আগের দিন মারা গিয়েছিল ৫ জন, যা ছিল গত ২৮২ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। গতকাল যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে ৭ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ১০ জনের বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব। এদিকে গত এক সপ্তাহে দেশে নতুন রোগী শনাক্ত কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
গতকাল অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ এক সপ্তাহে (৭-১৩ ফেব্রুয়ারি) ৯৮ হাজার ৬০৮ নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৪৯৬ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৯৭ হাজার ১১১ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার রোগী। শেষ সপ্তাহে ৭৬ জন মারা গেছে আর আগের সপ্তাহে মারা গিয়েছিল ৭৯ জন। এ ছাড়া শেষ সপ্তাহে সুস্থ বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ৩৪২তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১০ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৬৫টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১২ হাজার ৩৯৭ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। আগের কিছুসহ পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৮৭১ জনের নমুনা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ৩৮ লক্ষাধিক নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ২৬৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৮ হাজার ২৬৬ জন এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৪ জনসহ সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৭ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৩ এবং সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ১০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ সাত ও নারী ছয়জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২৫৯ পুরুষ ও ২ হাজার ৭ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৭২ ও নারী ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সাতজন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুজন করে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬১০ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫১৭, খুলনায় ৫৫৬, রাজশাহীতে ৪৭২, রংপুরে ৩৫৯, সিলেটে ৩০৯, বরিশালে ২৪৯ এবং ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ১৯৪ রোগী মারা গেছে। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ছয়, ৫১-৬০ বছরের চার, ৪১-৫০ বছরের এক, ৩১-৪০ বছরের এক এবং ২১-৩০ বছরের ছিল একজন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ৬৮ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩২ হাজার ৭১২ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩২৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৩৪২টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ১৬৪টিতে।
