রাকাবে পদোন্নতি-বদলিতে অনিয়ম

ব্যাখ্যা চেয়ে এমডিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠি

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০৬ এএম

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ব্যাখ্যা তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিছকে পাঠানো চিঠিটি সম্প্রতি রাজশাহীতে রাকাবের প্রধান কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। 

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিস রাকাবের কার্যালয়ের ওপর পরিচালিত একটি বিশেষ পরিদর্শনে দুই ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে।

পদোন্নতি নীতিমালায় অসঙ্গতির বিষয়ে বলা হয়, রাকাবের চাকরি প্রবিধানমালা ২০০৬-এর তফসিল ৯নং ক্রমিক অনুসারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সিনিয়র অফিসার) থেকে মুখ্য কর্মকর্তা (প্রিন্সিপাল অফিসার) পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সিনিয়র অফিসার পদে অন্যূন ৩ বছরের চাকরিসহ ব্যাংক কর্মকর্তা পদে অন্যূন পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

কিন্তু ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট সিনিয়র অফিসারদের একটি ব্যাচের সবাইকে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যাদের চাকরির অভিজ্ঞতা ছিল ৪ বছর ৬ মাস করে। ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগ পেয়েছিল ওই ব্যাচটি।

রাকাবের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই ব্যাচটির পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ ও মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি দল বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনিয়ম করে এই পদোন্নতি পাইয়ে দেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাখ্যা তলব করে বলেছে, ২০১০ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সরাসরি যোগ দেওয়া সিনিয়র অফিসাররা ৩ বছরেরও বেশি সময় ওই পদে কাজ করার পরও মোট কর্ম অভিজ্ঞতা ৫ বছর না হওয়ায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের প্রিন্সিপাল অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হননি। খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ওই কর্মকর্তাদের অবস্থান ছিল ২৪ থেকে ৮৪-এর মধ্যে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১০ সালে সরাসরি যোগ দেওয়া সিনিয়র অফিসাররা ২০১১ সালের আগস্টে পদোন্নতি পাওয়া সিনিয়র অফিসারদের তুলনায় জ্যেষ্ঠ ছিলেন। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল ওই ব্যাচটিকে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়ায় ২০১০ সালের ব্যাচটি জ্যেষ্ঠতায় পিছিয়ে পড়ে।

রাকাবের বদলিসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, রাকাবের কর্তকর্তা-কর্মচারী বদলিসংক্রান্ত নীতিমালা ২০১৭-এর ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য কর্মরত রাখা যাবে না।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পাচার প্রতিরোধ বিভাগের ২০০৪ সালের জারি করা নির্দেশনা ও ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের ২০১৮ সালের নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন বছর পরপর বদলির ব্যবস্থা করতে হবে।

এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে রাকাবের প্রধান কার্যালয় ও ঢাকা অফিসে কিছু কর্মকর্তাকে ৩ থেকে ১২ বছরের বেশি সময় বহাল রাখা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। একটানা দীর্ঘ সময়ে এক শাখায় থাকা কর্মকর্তাদের একটি তালিকাও চিঠির সঙ্গে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই তালিকায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক শওকত শহিদুল, শামীমা ফেরদৌস শিমুল, মজনুর রহমান, নাহিদ আফসান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মুকুল কুমার, পিয়ারুল ইসলাম, মোস্তাক হাসান, সাদেকুল ইসলাম ডাব্লিউ, আবদুল মালেক, আতাউর রহমান, মাহমুদ হোসাইন, ঢাকা অফিসের শফিকুল ইসলামের নাম রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিধি-বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি ও একই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময়ে কর্মকর্তা বহাল থাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে রাকাবের এমডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য রাকাবের এমডি মোহাম্মদ ইদ্রিছের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাতে সাড়া দেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিদর্শন বিভাগ-৩ এই বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করে। পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়ে ব্যাংকটির এমডির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত