দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহতভাবে কমছে। গত এক মাসের ব্যবধানে নতুন রোগী শনাক্ত কমে অর্ধেকে নেমেছে। যদিও শেষ এক মাসে আগের মাসের চেয়ে প্রায় ৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা বেশি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক মাসে (১৬ জানুয়ারি-১৪ ফেব্রুয়ারি) ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩২৪ নমুনা পরীক্ষায় ১৪ হাজার ১০৭ রোগী শনাক্ত হয়েছে। যেখানে আগের এক মাসে ৪ লাখ ৯ হাজার ২৫৫ নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৩০ হাজার ৬৪৪ জন। দেখা যাচ্ছে, শেষ এক মাসে রোগী শনাক্ত কমেছে ৫৪ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি। এ ছাড়া এক মাসের ব্যবধানে রোগী শনাক্তের হারও নেমেছে অর্ধেকের নিচে। আগের এক মাসে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর শেষ এক মাসে এই হার কমে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশে নেমেছে। যদিও গত কয়েক দিন ধরে শনাক্ত হার আরও কমে গিয়ে ২ শতাংশের ঘরে ঠেকেছে।
এদিকে দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩২৬ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার সংস্থাটির নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯০০ নমুনা পরীক্ষায় ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন রোগী শনাক্ত আগের দিনের চেয়ে বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ৬ জনের বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ৩৪৩তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১০ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৬৫টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৩ হাজার ২২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৯০০ জনের নমুনা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ৫৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৮ হাজার ২৭৪ জন এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৬২ জনসহ সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ২২৯ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৩ এবং সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ পাঁচ ও নারী তিনজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬৪ পুরুষ ও ২ হাজার ১০ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৭১ ও নারী ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পাঁচজন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে রাজশাহী, বরিশাল ও ময়মনসিংহে একজন করে মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬১৫ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫১৭, খুলনায় ৫৫৬, রাজশাহীতে ৪৭৩, রংপুরে ৩৫৯, সিলেটে ৩০৯, বরিশালে ২৫০ এবং ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ১৯৫ রোগী মারা গেছে। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব চার, ৫১-৬০ বছরের দুই, ৪১-৫০ বছরের এক এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল একজন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ২৫০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ৩৮ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩২ হাজার ৬২৬ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩২৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৩৪৫টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ১৬৫টিতে।
