সংঘর্ষ আর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে চতুর্থ ধাপে দেশের ৫৫ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট।’ এদিকে অনিয়মের কারণে সাতটি ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সচিব বলেন, ‘সারা দেশেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নরসিংদীতে অনিয়মের কারণে চারটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট বন্ধ করা হয়েছে এবং শরীয়তপুরের ড্যামুডায় দুটি কেন্দ্রে অর্থাৎ সাতটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। আর বাকি ৫০৩টি কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তারা আমাদের যে রিপোর্ট দিয়েছেন, প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমাদের কাছে রিপোর্ট এসেছে এবং আমরা যে গণমাধ্যমে যা দেখেছি, তাতে আমাদের কাছে মনে হয়েছেÑ ভালো হয়েছে ভোট।’
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছে কিন্তু আপনাদের প্রত্যাশা ছিল সংঘাতমুক্ত নির্বাচন, সেটি কি পূরণ হয়েছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘ঠিকই বলেছেন। পটিয়াতে যে ঘটনা ঘটেছে, আমাদের যে ভোটকেন্দ্র, সেই ভোটকেন্দ্রের বাহিরে, যারা প্রার্থী তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন মানুষ মারা গিয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য দুঃখজনক। এটি ঘটুক আমরা কেউ প্রত্যাশা করি না। কিন্তু প্রার্থীদের মধ্যে যেই মারামারিটা হয়েছে ভোটকেন্দ্রের বাহিরে, এটি আমাদের ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণে কিন্তু কোনো প্রভাব ফেলেনি। সেখানে ভোটগ্রহণ হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে, এই লোকটি যে মারা গেছেন, সেটি ভোটকেন্দ্রের বাহিরে মারামারিতে। সত্যি এটা দুঃখজনক ব্যাপার। কিন্তু আমরা মনে করি, পুরো ৫৫টি জায়গায় যে সাতটির কথা বলেছি, এগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলোতে ভালো ভোট হয়েছে।’
মারা যাওয়ার ঘটনার পর মানুষ কীভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবে, তাহলে এ ঘটনায় প্রভাব কীভাবে পড়ল না, এটা কী বলবেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি হলো একটি প্রার্থীদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। হঠাৎ করে হয়ে গেছে, একজন লোক মারা গেছেন। কিন্তু যারা ভোটার তারা তো ভোটকেন্দ্রে যাবেন, যে জায়গায় মারামারি হয়েছে, সেই জায়গায় যাবেন না। সেখানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিল। ঘটনা যেটি ঘটেছে সেটি হচ্ছে দুই প্রার্থী মারামারি করেছে, এ দায়টি তাদের। কারণ তারা নিজেরা মারামারি করেছেন, খুন হয়েছেন। কিন্তু ভোটার যারা কেন্দ্রে এসেছেন, ল এনফোর্সিং এজেন্সি যারা ছিলেন, প্রিসাইডিং অফিসার যারা ছিলেন, তারা প্রত্যেকে আমাদের রিপোর্ট দিয়েছেন, যে ভোট নেওয়ার মতো পরিবেশ ছিল, সুষ্ঠু ছিল।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, আপনাদের কাছে কী মনে হয়েছে প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে।’
ইসি চাইলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব এমনটা অনেকেই মনে করছেন, আপনার বক্তব্য কী প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি প্রাণও যেন ঝরে না পড়ে। কিন্তু এটি ভোটকেন্দ্রের বাহিরে দুই প্রার্থীর মধ্যে...। এটি যেমন ঘরে ঘরে হতে পারে, তারা যেমন বাহিরে গিয়ে তর্ক করেছে, সেখানে নিহত হয়েছে। এখানে ল এনফোর্সিং এজেন্সির ওই মুহূর্তে ওই জায়গায় গিয়ে ইন্টারফেয়ার করার সুযোগ ছিল না, এটিই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। আমার এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট।’
