৬ এলএনজি ট্যাঙ্কার কেনার প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:৫৩ এএম

লিক্যুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ৬টি বড় আকারের ট্যাঙ্কার কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এজন্য বিভিন্ন দেশের এলএনজি ট্যাঙ্কার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএসসির সচিব খালেদ মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ট্যাঙ্কারগুলো কেনার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের ট্যাঙ্কার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্পের কাঁচামাল গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ২০১৮ সালে মহেশখালী উপকূলে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসিয়ে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক গ্যাসকে শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করা হলে তা হয় এলএনজি। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ৩ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানির পথ বেছে নিয়েছে সরকার।

বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ এবং ব্লু-ইকোনমি ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৩২টি জাহাজের বিশাল বহর গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএসসি। এরই অংশ হিসেবে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনার পর ৬টি এলএনজি ট্যাঙ্কার কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।

যে ট্যাঙ্কারগুলো কেনা হচ্ছে, তার মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি, ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি রয়েছে। এসব ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি পরিবহন করা সম্ভব হবে। ১ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কার দুটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি ৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা ও ১ লাখ ৮০ হাজার ঘনমিটার দুটি ট্যাঙ্কারের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

বিএসসির কর্মকর্তারা আরও জানান, সরকার বিএসসিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে চীনের আর্থিক সহায়তায় ১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশটি থেকে ৬টি জাহাজ কেনে। এগুলো হলো এমভি বাংলার জয়যাত্রা, এমভি বাংলার সমৃদ্ধি, এমভি বাংলার অর্জন, এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা, এমটি বাংলার অগ্রদূত এবং এমটি বাংলার অগ্রগতি। এগুলোসহ বর্তমানে শিপিং করপোরেশনের বহরে মোট ৮টি জাহাজ রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে আরও ২৬টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। জি-টু-জি পদ্ধতিতে চীন থেকে কেনা জাহাজগুলোর মধ্যে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাদার ট্যাঙ্কার, ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার ও ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার রয়েছে। ১৯৭২ সালে ‘বাংলার দূত’ জাহাজ দিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত সংস্থাটি বিভিন্ন ধরনের মোট ৪৪টি জাহাজ সংগ্রহ করলেও বয়সজনিত এবং অলাভজনক বিবেচনায় ৩৬টি জাহাজ বিক্রি করে দেয়। আর ৩৪ বছরের পুরনো দুটি মাদার ট্যাঙ্কার ‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ আন্তর্জাতিক সমুদ্রে পণ্য পরিবহনের উপযুক্ততা হারিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত