পড়াশোনা শেষে কোমর বেঁধে নেমেছেন একটি চাকরির জন্য। একের পর পর আবেদন করে যাচ্ছেন, প্রস্তুতিরও ঘাটতি নেই, এরপরেও কোনো গতি হচ্ছে না। এমন ঘটনা নিশ্চয়ই অপরিচিত না। নতুন চাকরি খুঁজতে গিয়ে কিছু ভুল করে থাকেন অনেকে, যাতে আটকে যায় সাফল্য। আসুন বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিই।
সিভি ঠিকমতো না লেখা
চাকরি পেতে একটি যথাযথ সিভি আপনাকে প্রস্তুত করতে হবে। যেনতেন ভাবে সিভি জমা দিলেই হবে না। মনে রাখবেন, একটি পদের বিপরীতে শত শত আবেদন পড়ে। আকর্ষণীয় সিভিই বেছে নেবে নিয়োগকারীরা। আপনার সিভি এমনভাবে তৈরি করুন, যাতে আপনাকেই তারা উপযুক্ত মনে করেন। সঙ্গে কাভার লেটার যুক্ত করতে ভুল করবেন না। সিভি যদি মেইল করতে হয় তাহলে সিভির ফাইল সংযুক্তি করতে পারেন আর মেইলের বডিতে দিতে পারেন কাভার লেটার।
সীমিত পর্যায়ে চাকরি খোঁজা
পড়ালেখার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে অনেকে চাকরির আবেদন করে থাকেন। বাস্তবতা হচ্ছে, অধিকাংশ চাকরিতে যে কোনো পড়ালেখার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আবেদন করা যায়। ফলে সীমিত পর্যায়ে চাকরির আবেদন করা বড় ধরনের ভুল। নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুসারে জায়গা খুঁজে খুঁজে আবেদন করতে থাকুন।
অগোছালোভাবে ভাইভাতে অংশগ্রহণ
পোশাক পরিচ্ছেদে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে আপনি যথেষ্ট রুচিশীল। আর মনে রাখতে হবে, ভাইভা বোর্ডের প্রশ্নের উত্তর অগোছালোভাবে দেওয়া যাবে না। বোর্ড মেম্বারদের সবাইকে একই উত্তরই দিতে হবে। একেকজনকে একেক উত্তর দিলে আপনার যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি প্রকাশ পাবে। চেষ্টা করতে হবে, উত্তর যাতে সহজ ও বোধগম্য হয়। আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য নানাভাবে পেঁচিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন তারা। এতে কোনোভাবে ঘাবড়ে যাবেন না।
হতাশা প্রকাশ করা
একের পর এক চাকরি খুঁজেই যাচ্ছেন। কোনো ভাইভা থেকেও ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে হতাশা থাকতেই পারে। সেটি কোনোভাবে প্রকাশ করা যাবে না আরেকটি ভাইভাতে গিয়ে। চাকরির ব্যাপারে আপনি আত্মবিশ্বাসী সেটি প্রকাশ করুন। চাকরিটা না হলে আপনি সমস্যায় পড়বেন এমনটা কোনোভাবেই প্রকাশ করা উচিত নয়। নিজের যোগ্যতাকে শতভাগ ঢেলে দিন, নিজেকে প্রমাণ করুন।
হাল ছেড়ে দেয়া
চাকরির বাজার মানে তীব্র প্রতিযোগিতা। দিনের পর দিনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে। কোনোভাবে হাল ছেড়ে দিতে নেই। লক্ষ্য ঠিক রেখে আবেদন করে যান, প্রস্তুতিতেও যাতে কোনো ঘাটতি না হয়। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। মাঝখানে হাল ছেড়ে গেলে পিছিয়ে পড়তে হবে।
