বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের প্রান্তসীমা মূল্য (কাটঅফ প্রাইস) নির্ধারণে নিলাম (বিডিং) শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা থেকে শুরু হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ৭৫৫তম সভায় বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারকে নিলামের অনুমোদন দেয়। আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২২৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে কোম্পানিটি দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পাওয়ার ও বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারে বিনিয়োগের পাশাপাশি আংশিক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে খরচ করবে।
২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী অনুসারে, পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) সম্মিলিতভাবে ২৩ টাকা আর এককভাবে ২০ টাকা ৯৮ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৩৭ পয়সা, এককভাবে যা ১ টাকা ৮৪ পয়সা।
বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা কম থাকায় পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা থাকার পরও বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের সাবসিডিয়ারি দুটি পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারছে না। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে। তা হয়ে গেলে আগামী মে মাস থেকে কেন্দ্র দুটি পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারবে বলে কোম্পানি জানিয়েছে।
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর কাদির শাফি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে আমরাই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যারা ডি-সালফারাইজেশন প্রযুক্তির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছি। এ প্রযুক্তি সালফার নিঃসরণ গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রাখতে সক্ষম। বর্তমানে সঞ্চালন লাইনের অপর্যাপ্ততার কারণে আমাদের দুটি সাবসিডিয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে উৎপাদনে যেতে পারছে না। তবে আগামী মে মাস থেকে আমরা সম্পূর্ণ উৎপাদনে যেতে সক্ষম হব। এতে আমাদের কোম্পানির আয়ও বাড়বে।
এদিকে আগামীকাল সোমবার থেকে বারাকা পতেঙ্গার প্রান্তসীমা মূল্য নির্ধারণে যে নিলাম শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে অংশ নিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বাজার মূল্যে ন্যূনতম বিনিয়োগের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ ও ১১ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ ওই দিন যেসব যোগ্য বিনিয়োগকারীর বাজার মূল্যে ন্যূনতম এক কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে, পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী শুধুমাত্র সেসব প্রতিষ্ঠানই নিলামে অংশ নিতে পারবে। গত ৫ জানুয়ারি এসইসি কোম্পানিটিকে বিডিংয়ের অনুমোদন দেয়।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অনুমতি পাওয়ার পর চট্টগ্রামে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ফার্নেস অয়েল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার। ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করে। এর একটি কণফুলী পাওয়ার লিমিটেড, যেটি ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ফার্নেস অয়েলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। অন্যটি হলো এইচএফওভিত্তিক বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার লিমিটেড, যা ২০১৯ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। এটির উৎপাদনক্ষমতা ১০৫ মেগাওয়াট সাবসিডিয়ারি দুটির ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার।
প্রথম বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট হিসেবে কোম্পানিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইপিপিএফ প্রজেক্ট সেলের মাধ্যমে ২ কোটি ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে বিশ্বব্যাংক।
কোম্পানিটির চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী চৌধুরী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে আরে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বৃহত্তম উৎপাদনকারী কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। এজন্য আমাদের সাবসিডিয়ারিগুলোকে আরও লাভজনক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পুঁজিবাজারে আসতে পারলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
