বিশ্বজুড়ে মৃত্যু পৌনে ২৫ লাখ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৩২ এএম

বিশ্বজুড়ে টিকাকরণের মধ্যেই শনাক্ত হচ্ছে করোনার নতুন ধরন। কোনো কোনো এলাকায় নিয়ন্ত্রণে আসা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু ফের বাড়ছে। গতকাল রবিবার অবধি বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ১৭ লাখে। এর মধ্যে মারা গেছে অন্তত ২৪ লাখ ৭৩ হাজার জন। আর ৮ কোটি ৬৮ লাখ ১৯ হাজার ৫ জন সুস্থ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য মতে বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ জন মারা গেছে। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার ৪৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৭২ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৮ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬ জনের। সুস্থ হয়েছে ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৯ জন।

এদিকে আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ৬৫১ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৯ জনের। আর সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮৪ জন। মারা গেছে ৮২ হাজার ৮৭৬ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৩৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩৩ জন।

আক্রান্তের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ৪১ লাখ ৫ হাজার ৬৭৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৬৫ জন। আর ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১ জন সুস্থ হয়েছে।

ছয়ে থাকা ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত করোনা হানা দিয়েছে ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার মানুষের দেহে। এর মধ্যে প্রাণ ঝরেছে ৮৪ হাজার ১৪৭ জনের।

স্পেনে করোনার শিকার ৩১ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৬৭ হাজার ১০১ জনে ঠেকেছে।

ইতালিতে এখন পর্যন্ত ২৭ লাখ ৯৬ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৯৫ হাজার ৪৮৬ জনের। সুস্থতা লাভ করেছে দুই-তৃতীয়াংশ রোগী।

তুরস্কে করোনা হানা দিয়েছে এখন পর্যন্ত ২৬ লাখ ৩২ হাজার মানুষের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৩ জনের।

এ ছাড়া মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, পেরু, চিলি, জার্মানি, ইউক্রেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে ঝরছে বহু মানুষের প্রাণ।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। এরপর গত ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত