দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন পালিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেকপোস্ট গেটের ২৮৫ নম্বর মেইন পিলারের ১১ নম্বর সাবপিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় সীমিত পরিসরে এ আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া একই দিন সকালে যশোরের বেনাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডেও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবসটি পালন করা হয়। এদিন ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে গিলে কেবল ভাষার টানে এক মঞ্চে বাংলা ভাষার জয়গান তুলে ধরেন দুই বাংলার হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ।
হিলি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বাধার কারণে প্রথমে শূন্যরেখায় আসতে না পারলেও পরে অনুমতি দিলে নিজ নিজ অংশে দাঁড়িয়ে এই কর্মসূচি পালন করে সাধারণ জনতা। তবে তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি বিনিময় করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় সেখানে সীমান্তের শূন্যরেখার উভয় পাশে ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে প্রথমেই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের পক্ষে হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা, পৌর মেয়র জামিল হোসেন এবং ভারতের পক্ষে বালুরঘাট পৌর মেয়র হরিপদ সাহা, জয়েন্ট মুভমেন্ট ফর করিডরের আহ্বায়ক নবকুমার দাশ, বিজিবির হিলি আইসিপি চেকপোস্ট কমান্ডার নায়েব সুবেদার ইয়াসিন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ডে গতকাল সকাল ১০টার দিকে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক, বনগাঁ পৌর মেয়র শংকর আঢ্য প্রমুখ।
এদিন ভাষার টানে শহীদদের প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধা জানালেন ভারত-বাংলাদেশ জনপ্রতিনিধিরা। ফুলে ফুলে ভরে গেল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে নির্মিত শহীদ বেদি। অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়। মিষ্টি বিতরণ, আলোচনা আর গানে গানে মাতোয়ারা হয় দুই বাংলার আকাশ-বাতাস। উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। দুই দেশের জাতীয় পতাকা, নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। দুই বাংলার মানুষের এ মিলন মেলায় উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহের আমেজ সৃষ্টি হয়।
