শরীরের কিছু কিছু স্থান সব সময় পোশাকে আবৃত এবং সংকুচিত অবস্থায় থাকে। যেমন বগল, রানের নিচ, নিতম্ব ইত্যাদি। এসব স্থানে ফাংগাই নামক ক্ষুদ্র অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। যাকে মেডিকেলের ভাষায় ফাংগাল ইনফেকশন বা Tinea cruris বলে। সহজ ভাষায় একে দাদ বলে। এ ছাড়া শরীরের অন্য অংশে হলে একে Tinea Corporis বলে। পায়ে হলে Tinea pedis, আবার শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে হলে Groin Area বলে।
কারণ
ধুলাবালি শরীরে আটকে থাকলে।
ময়লা জামা-কাপড় কিংবা অতিরিক্ত ঘাম জমে স্যাঁতসেঁতে অবস্থার সৃষ্টি হলে।
গোসল করার পর শরীরের পানি না শুকালে।
এসব পরিস্থিতিতে অণুজীবগুলো খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ফাংগাল ইনফেকশনের উপসর্গ নিজের মধ্যে উপলব্ধি করতে পারে।
উপসর্গ
প্রথমে লাল গোলাকার রিং আকৃতির দাগ দেখা যাবে। যার মাঝখানে ক্লিয়ার থাকবে। চুলকানির ফলে চামড়ায় ক্ষত হতে পারে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে চুলকানি বেড়ে যায়। তা হলো গোসলের পর কিংবা ঘুমানোর আগে ও ঘুম থেকে ওঠার পর। আস্তে আস্তে এই সংক্রমণ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়ও ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত চুলকানির কারণে অনেক সময় পানি ও রক্ত বের হতে পারে।
প্রতিরোধ
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা।
আঁটসাঁট জামা-কাপড় না পরা।
আক্রান্ত ব্যক্তির জামা-কাপড় ব্যবহার না করা।
ধুলাবালি লাগলে শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করা।
পুকুরের পানিতে গোসল করা যাবে না, কারণ পুকুরের পানিতে ঋঁহমধষ ড়ৎমধহরংস-এর অস্তিত্ব বিদ্যমান।
গোসলের পর শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশ গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মুছে নেওয়া।
শরীরের যে অংশে ঘাম জমে সেই স্থানগুলো সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
চিকিৎসা
সংক্রমিত স্থানে অ্যান্টি-ফাংগাল ক্রিম (Clotrimazole) সকাল-সন্ধ্যায় দুবার ব্যবহার করতে হবে। এর সঙ্গে Terbenafine ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি চুলকানি পরিমাণে বেশি হয়, তবে ওরাল অ্যান্টি-ফাংগাল নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে Fluconazole, Terbenafine ইত্যাদি খুব ভালো কাজ করে। তবে ছয় সপ্তাহ ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি চুলকানি কমানোর জন্য AntiHistamine ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া Fexophenadine ভালো কাজ করে।
