জনপ্রত্যাশা পূরণে চাই পেশাগত জ্ঞান সাহসিকতা : আইজিপি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৬:৪২ এএম

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকা। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে দেশে শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, সামাজিক সূচকেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে আমাদের দেশ উন্নত দেশ হবে। বাংলাদেশ পুলিশকেও উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ হতে হবে। আজকের নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদেরই ২০৪১ সালের উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল পুলিশ। আত্মতুষ্টি নয়, আমরা অনেক পথ এসেছি, যেতে হবে বহুদূর। পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা বেশি, সমাজের চাহিদা বেশি। জনগণ, সমাজ, মিডিয়া প্রতিনিয়ত পুলিশকে ওয়াচ করে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে। নিজের মধ্যে দৃঢ়প্রত্যয় সৃষ্টি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ধরনের সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য অপেক্ষা না করেই পুলিশ সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা জনগণের অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। জনগণকে ভালোবাসলে তাদের ভালোবাসাও পাওয়া যায়।’

জঙ্গিবাদ দমনে সফলতার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বে “রোল মডেল”। দেশে জঙ্গিবাদ দমনে আমরা জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি। যার ফলে জঙ্গিবাদ দমনে আমরা সফল হয়েছি।’

আইজিপি বলেন, ‘আমরা জনগণের সঙ্গে অসদাচরণ করা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। পেশিশক্তি নয়, ব্যবহার করতে হবে আইনি সক্ষমতা।’

দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।’ নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীতে এসে কারও অবৈধ উপায়ে অবৈধ অর্থ আয়ের ইচ্ছা থাকলে তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান। জনগণের কল্যাণে কাজ করার অপার সুযোগ রয়েছে পুলিশের। পুলিশ হতে পারে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা, সোশ্যাল লিডার।’

প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হতে হলে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। গুরুত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিজেকে শারীরিকভাবে ফিট রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিরাসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশের ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ৯৭ জন কর্মকর্তা যোগদান করেছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ পুরুষ এবং ১২ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত