শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গতকাল বুধবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ড. আহমদ শরীফ স্মারক বক্তৃতা ও স্মারক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতা করেন কলকাতার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ গবেষক অধ্যাপক ড. প্রথমা রায় মন্ডল। আহমদ শরীফকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার নিপুণ চিন্তার দর্শন আলোচনার জন্য অল্প সময় যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বৃহৎ পরিসর।’
তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ড. আহমদ শরীফ জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আহমদ শরীফ প্রচলিত ধ্যানধারণাকে ভেঙে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এবং যুক্তি ও প্রমাণসাপেক্ষে সবকিছু বিচার করতে চেয়েছেন।’
এরপর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাতে ড. আহমদ শরীফ স্মারক পুরস্কার তুলে দেন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এটি আমার জীবনের প্রথম পুরস্কার নয়, তবে অবশ্যই বিশেষ কিছু। এ পুরস্কার আমাকে স্মরণ করে দিয়েছে আমার অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে।’
জনগণের জন্য তার অসীম দরদ ছিল উল্লেখ করে আহমদ শরীফকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ক্ষুদ্র অংশই অর্জিত হয়েছে। কথা বলার ও মুক্তচিন্তার অধিকার এখনো অর্জিত হয়নি।’ এছাড়া তিনি সরকারকে ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আহমদ শরীফ বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই ছাত্রদের দাবির সঙ্গে একত্মতা প্রকাশ করতেন।’ আহমদ শরীফ স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃক কোনো আয়োজন না থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সরকারকে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সহনশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন।
আনু মুহম্মদ আহমদ শরীফ সম্পর্কে তার বক্তব্যে বলেন, লেখক, গবেষক বা শিক্ষক তার পূর্ণ পরিচয় বহন করে না। তিনি এর থেকেও বেশি কিছু। আহমদ শরীফের লেখা নিয়ে গবেষণার জন্য ড. প্রথমা রায় ম-লকে তিনি ধন্যবাদ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ও ড. নেহাল করিম। এছাড়া অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও আহমদ শরীফের স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন হাসান ফকরী।
